খাগড়াছড়ি পৌর শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বা টমটমের সংখ্যা। শহরবাসীর অভিযোগ, শহরে এখন মানুষের তুলনায় টমটমই যেন বেশি। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যানবাহন বৃদ্ধি, যত্রতত্র পার্কিং, অনভিজ্ঞ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি পৌর শহর ও সদর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ইজিবাইক বা টমটম চলাচল করছে। শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগল্তিসবখানেই এসব যানবাহনের আধিক্য চোখে পড়ে। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে–সেখানে যাত্রী ওঠানামা ও গাড়ি দাঁড় করানোর কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগও রয়েছে। খাগড়াছড়ি পৌর শহরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, মোবারক হোসেন ও ইমন চৌধুরী জানান, অধিকাংশ টমটমের কোনো নিবন্ধন নম্বর নেই। অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। ফলে সড়কে চলাচলের সময় সবসময়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট–বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
এ অবস্থায় খাগড়াছড়ি পৌর শহরে টমটমের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সচেতন নাগরিক প্রতিনিধি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, নগরবাসীর নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে টমটম পরিচালনায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি।
খাগড়াছড়ি ট্রাফিক বিভাগের সহকারী ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক পুলক দেব বলেন, শহরে চলাচলকারী প্রায় ৮৫ শতাংশ যানবাহনই টমটম। তবে এসব যানবাহনের বড় একটি অংশ প্রচলিত মোটরযান আইনের আওতার বাইরে থাকায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ সংকট নিরসনে পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার জানান, টমটম চালক সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত বলেন, খাগড়াছড়ি পৌর শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও শহরে টমটমের সংখ্যা নির্ধারণে সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পনা চলছে।












