বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ উপজেলায় স্পেশাল ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি

শুকলাল দাশ | রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ at ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য শুরু হয়েছে স্পেশাল ওএমএস এবং স্পেশাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সরকার এ কর্মসূচি চালু করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে জানা গেছে, ওএমএস কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মাঝে প্রতিদিন ২ জন ডিলারের মাধ্যমে ২ টন চাল ও ১ টন আটা দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে স্পেশাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ডিলারের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে প্রতি কেজি ১৫ টাকা দামে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রাজীব কুমার দে আজাদীকে বলেন, গত রোববার থেকে চট্টগ্রামের সব উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য ওএমএস কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিদিন প্রত্যেক উপজেলায় ২ টন করে চাল এবং ১ টন করে আটা দেওয়া হচ্ছে ২ জন ডিলারকে। এই কর্মসূচি আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এছাড়া বন্যার্তদের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় স্পেশাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির শুরু হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এমনিতে ৫ মাস চালু থাকে। এটা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য চালু হয়েছে। স্পেশাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এজন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৩০ কেজি চাল (প্রতি কেজি ১৫ টাকা দামে) পাবেন।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি হলো সরকারের একটি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম, যার মাধ্যমে দেশের হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল দেওয়া হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি ১৫ টাকা মূল্যে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। স্বচ্ছতা আনতে উপকারভোগীদের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।

সাধারণত বছরে ৫ থেকে ৬ মাস (যেমন মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও আগস্ট) এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে এবার চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বছরের স্পেশাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধকে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?