রেলওয়েতে একযোগে ৫২৫ কর্মচারীর পদোন্নতি

গেটকিপার-পোর্টারসহ আট পদের কর্মচারীরা হলেন পয়েন্টসম্যান পদায়ন পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে

শুকলাল দাশ | শনিবার , ২৫ জুলাই, ২০২৬ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ রেলওয়েতে একযোগে ৫২৫ জন কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গেটকিপার, পোর্টার, রানিং রুম বেয়ারার, ডাক রানার, সীল ম্যান, কল বয়, ওয়েটিং রুম আয়া এবং ডব্লিউআরএ পদে কর্মরত অর্ধ সহস্রাধিক কর্মচারীকে নিয়মিতভাবে ‘পয়েন্টসম্যান’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত দপ্তরাদেশ জারি করা হয়।

রেল ভবনের মহাপরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীরা বাংলাদেশ রেলওয়েতে দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আট পদের কর্মচারীদের একযোগে একটি দপ্তরাদেশের মাধ্যমে পয়েন্টসম্যান পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীদের বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

রেল ভবনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরিবহন বিভাগের ১৮তম গ্রেডভুক্ত (জাতীয় বেতন স্কেল২০১৫) পয়েন্টসম্যান পদে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। রেল ভবনের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোপূর্বে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। নিরাপদ ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে পয়েন্টসম্যান পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পয়েন্টসম্যানের কাজের ধরন ও দায়িত্ব : রেলওয়েতে পয়েন্টসম্যান পদের মূল কাজ হলো ট্রেন চলাচল নিরাপদ ও সচল রাখতে রেললাইন এবং সিগন্যাল পরিচালনা করা। এর মধ্যে রয়েছে ট্র্যাক ও পয়েন্ট পরিবর্তন করা, স্টেশন মাস্টারের নির্দেশনা ট্রেনচালকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং শান্টিং কাজে সহায়তা করা। বিশেষ প্রয়োজনে ট্র্যাক বা রেলপথ পরিবর্তন, ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে কোচ সংযোজন বা বিয়োজন করা, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ট্রেনচালক সিগন্যাল দেখতে ব্যর্থ হলে ট্রেনটিকে নিরাপদে কাছের স্টেশনে পৌঁছাতে সহায়তা করাও পয়েন্টসম্যানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

এছাড়া ওয়াগন বা মালবাহী ট্রেন সঠিক ও নিরাপদ স্থানে স্থাপন করা, রেলওয়েতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সুইচ বা পয়েন্ট পরিচালনাসহ রেলওয়ের পয়েন্টসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করতে হয় একজন পয়েন্টসম্যানকে। কাজের ধরন অনুযায়ী একজন পয়েন্টসম্যান শিফটভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবেন। দিন ও রাত মিলিয়ে মোট তিনটি শিফটে ভাগ করে শ্রম আইন অনুযায়ী আট ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়।

রেলওয়ের এ পদোন্নতির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে জনবল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচেরাগী মোড় থেকে অপহরণের ৬ ঘণ্টা পর রাঙ্গুনিয়ায় মা-ছেলেকে উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধজামায়াতের শুকরিয়া, গ্রেপ্তার চায় এনসিপি ও খেলাফত মজলিস