কর্ণফুলীতে ধসে পড়ছে নদীরক্ষা ব্লক

রাঙ্গুনিয়ায় আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ১৯ জুলাই, ২০২৬ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

বর্ষার তীব্র স্রোত আর নদীর করাল গ্রাসে রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী মানুষের চোখে এখন শুধুই ভাঙনের আতঙ্ক। উপজেলার পূর্ব সরফভাটা থেকে গোডাউন ব্রিজ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় আড়াই কিলোমিটার স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে ব্লক ধসে পড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

সরেজমিনে সরফভাটা ভূমিরখীল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। কোথাও ব্লক ধসে গিয়ে ভেতরের সাদা কার্পেট বেরিয়ে এসেছে, কোথাও বা নদীরক্ষা বাঁধের বিশাল অংশ ফাঁকা হয়ে ধসে পড়েছে নদীর বুকে। কর্ণফুলীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর তীব্র স্রোতের টানে ব্লকগুলো নেমে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইতিপূর্বে নদী ঘেঁষে যত্রতত্র অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে গেছে। যার ফলে নদীর পাড় থেকে মাটি সরে গিয়ে এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে ভূমিরখীল এলাকা দিয়ে ভাঙন দেখা দেওয়ার আশংকায় নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের শত শত পরিবারের। দ্রুত এই বাঁধ সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে বসতভিটা ও ফসলি জমি।

গত ১৪ জুলাই এই ভাঙনকবলিত সরফভাটা ভূমিরখীল এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যানার হাতে নদীর পাড়ে জড়ো হয়ে ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই ও জরুরি সংস্কারের দাবি জানান। হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, চার মাস আগে এখানে এসেছিলাম, ওয়াদা করে গিয়েছিলাম যে নদী ভাঙনের কারণে যারা যারা ক্ষতিগ্রস্ত আছে, তাদের পাশে থাকবো, তাদেরকে সহযোগিতা করব। এই বন্যার কারণে যেই এলাকাটা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, সেইটা আরও খারাপভাবে ধসে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা এ প্রসঙ্গে বলেন, সরফভাটা ভূমিরখীল এলাকা দিয়ে ইতিপূর্বে বেশ কিছু অংশ সংস্কার করা হয়েছিল। চলমান বর্ষায় নতুন করে ধসে যাওয়া ব্লকগুলো সংস্কারের জন্য সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী আমাদের জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। উনার নির্দেশনা অনুযায়ী যেখানে যেখানে ব্লক ধসে গেছে, সেখানে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বর্ষার তীব্রতা আরও বাড়ার আগেই এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে এবং কর্ণফুলীর ভাঙন থেকে রাঙ্গুনিয়াবাসী রক্ষা পাবে এমনটাই এখন সরফভাটাবাসীর একমাত্র প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগবেষণাই উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার অন্যতম ভিত্তি
পরবর্তী নিবন্ধপূর্ব বাকলিয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে মেয়রের ত্রাণ বিতরণ