বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেনারেটর বা শক্তিশালী ব্যাটারির সাহায্যে পানিতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরার এক ভয়ংকর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তথাকথিত ‘ইলেকট্রো ফিশিং’ বা কারেন্ট শক দিয়ে মাছ শিকারের এই ধারা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা আমাদের জলজ পরিবেশের জন্য এক নীরব বিপর্যয়। একদিকে চায়না দুয়ারি জালের ব্যাপক বিস্তার অন্যদিকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য পরিবেশবাদীদের মনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অনলাইন ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্যে দেখা গেছে, এই শক দেওয়ার ফলে শুধু বড় মাছই ধরা পড়ে না, বরং পানির নিচের পুরো ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যায়। তীব্র বৈদ্যুতিক আঘাতে মাছের ডিম, রেণু পোনা, কাঁকড়া, শামুক এবং উপকারী জলজ উদ্ভিদ সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। শক লাগার পর যেসব মাছ বেঁচে থাকে, তাদেরও প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। আমাদের দেশীয় মাছ ও জলজ সম্পদ বাঁচাতে এবং বিদ্যুতের এই অপচয় রুখতে অবিলম্বে ইলেকট্রো ফিশিংয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে এই আত্মঘাতী প্রথা বন্ধ করতে।
মো: আব্দুল্লাহ খান
শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।










