বান্দরবানের ২৮ ইউনিয়নের ২৩শ হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি

বান্দরবান প্রতিনিধি | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানে সামপ্রতিক বন্যাপাহাড়ি ঢলে কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার চৌত্রিশটি ইউনিয়নের মধ্যে ২৮ ইউনিয়নের কৃষকের দুই হাজার তিনশ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষীদের তথ্যমতে, জেলার সাতটি উপজেলায় ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৮টি ইউনিয়নের কৃষকের দুই হাজার তিনশ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সংখ্যা প্রাথমিক তদন্তে আট হাজারের বেশি। শুধুমাত্র কৃষিপণ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকারও বেশি চিহ্নিত হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বন্যায় চারপাঁচদিন পানির নীচে ডুবে থাকায় আউশ ধান, আমন বীজতলা ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, ভুট্টা, পেঁপেসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

রত্নপুর পাড়া প্রধান কার্বারী নিলুকান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এই অঞ্চলের বন্যায় খেতখামার গুলো বন্যায় কয়েকদিন ৫/৬ ফুট পানিতে ডুবে ছিল। এতে কৃষকের ক্ষেতের ফসলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে জমিতে ফসল চাষ করা কৃষকেরা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষক ছাত্তার, সুমন দাস ও মংথোয়াই বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়েই জমিতে ফসলের চাষ করেছি। বন্যায় ক্ষেতের ফসল সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খাবো কি এবং ঋণের কিস্তি দিবো কিভাবে সেই দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার বীজ, স্যার, চাষাবাদের জিনিসপত্র না দিলে নতুন করে চাষাবাদও করতে পারবো। সরকারের কাছে বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য সহযোগিতার দাবি জানাচ্ছি।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংচহ্লা মারমা বলেন, গোটা ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিকের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোয়ালিয়াখোলা, রতনপুর, রেইছাসহ আশপাশের এলাকাগুলোর মানুষজন কৃষি নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাড়াতে সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত তালিকা করে জমা হবে। সরকারি প্রণোদনা বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া ঋণগ্রস্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবোনা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নাঈম মো. সাইফুদ্দিন বলেন, বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কৃষকদের চাষযোগ্য বীজ দেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সংখ্যা প্রাথমিক তদন্তে আট হাজার পাওয়া গেছে। জেলায় ক্ষতির পরিমাণ দশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে ধারণা কৃষি কর্মকর্তাদের।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে ক্ষয়ক্ষতি ৬৬ কোটি টাকার বেশি
পরবর্তী নিবন্ধলোহাগাড়া ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক পদে বিস্ফোরক মামলার আসামি