ঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু স্ত্রী–সন্তান নিয়ে এখন ঘরে ফেরা হচ্ছে না। ঠিক কবে ফিরতে পারবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। ঘর এখন বসবাসের উপযোগী নাই। কারণ ঘরের মেঝেতে পড়েছে কাদামাটির আস্তরণ। কাদামাটি সরাতে গিয়ে ঘরের মেঝ যেন চাষের জমিতে পরিণত হচ্ছে। কাদামাটি সরিয়ে নেয়ার পর মেঝ সমান করতে হবে। কয়েক দিন পর একটু শুকিয়ে উঠলে মেঝেতে লেপন দিতে হবে। এর কয়েক দিন পর থাকতে পারবো। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘরের মেঝ থেকে কাদা সরাতে সরাতে কথাগুলো বলছিলেন সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া কাজীর পাড়ার মোঃ সেলিম।
একই এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, আমার ঘরে ৫ দিন বন্যার পানি ছিল। ঘরে পানি প্রবেশের পর থেকে পাশ্ববর্তী মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন বন্যার পানি নেমে গেলেও মাদ্রাসায় থাকতে হচ্ছে। শুধুমাত্র মোঃ সেলিম, জান্নাতুল ফেরদৌস আর লিটন জলদাস নয়। এটা এখন সাতকানিয়ার বন্যা কবলিত এলাকার চিত্র। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় পর থেকে শুরু হয়েছে ঘরে ফেরার যুদ্ধ। বন্যার পর ঘরের সব কিছু যেন নতুন করে গুছিয়ে নিতে হচ্ছে। যাদের কাঁচা ঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে তাদের দুঃখের সীমা নাই। ক্ষতিগ্রস্ত বসত ঘর মেরামত, ভিজে যাওয়া জিনিসপত্র শুকানো, মেঝেতে জমে থাকা কাদা সরানো, ঘরের মেঝেতে লেপন ও আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সব জিনিসপত্র ধোয়াসহ সব মিলিয়ে ঘরে ফিরতে মহাব্যস্ত বন্যার্ত মানুষ।
জনার কেঁওচিয়া এলাকার আবদুল মাবুদ জানান, ঘরে পানি প্রবেশের পর থেকে প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরে গিয়ে দেখি মেঝেতে কাদার প্রলেপ। কাদা আর নরম মেঝেতে পা দিলে মেঝ উঁচু নিচু হয়ে যাচ্ছে। এজন্য পুরো মেঝেতে বালি ছিটিয়ে দিয়ে এর উপর পলিথিন বিছিয়ে কোন রকম থাকতেছি।












