কাস্টমসের সার্ভার জালিয়াতি করে মদ-সিগারেট খালাসের চেষ্টা

তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ চক্রের এক সদস্য বিমানবন্দরে আটক

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সার্ভারে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল কাস্টমস ডকুমেন্ট তৈরি এবং মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অন্তত ১২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১২ হাজার বোতল বিদেশি মদ ও সিগারেট আমদানি করা সংঘবদ্ধ একটি চক্রের আরো এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ। শেখ সেজান (২৬) নামের ওই ব্যক্তি নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়। এই নিয়ে এই মদ ও সিগারেট চোরাচালানের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। সিএমপি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থানায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তে পূর্বে গ্রেপ্তার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ, গোপন তথ্য ও ডিজিটাল আলামতের ভিত্তিতে শেখ সেজানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি চীন থেকে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে ফেব্রিঙ আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এক কন্টেনার বোঝাই করে ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ এবং আরেকটি কন্টেনারে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আমদানি করে। তারা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেনার দুটি খালাসের চেষ্টা করে। এতে সরকার প্রায় ১২ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছিল। দেশ মদ আমদানিতে শুল্কহার চড়া, প্রায় ৬শ শতাংশের বেশি।

সিএমপি জানিয়েছে, শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ। তিনি কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের অ্যাসাইকোডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্টাল হ্যাক করে অন্যের ইউজার আইডি ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং ভুয়া এলসি (এলসিআই রেজিস্ট্রেশন ও ওপেন) সংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে পূর্বে গ্রেপ্তার অপর আসামি আশরাফ হোসেন ওরফে রাজুর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তার সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তে পাওয়া ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ বলেছে, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডি দিয়ে অননুমোদিতভাবে লগইন করা হয়। পরে একই আইডি ব্যবহার করে সিগারেট আমদানির এলসি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে শেখ সেজানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে নড়াইলের লোহাগড়ায় তার বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তিনি পলাতক ছিলেন। তবে ওই সময় তার ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিএমপি জানায়, শেখ সেজান এর আগেও সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ ও টিকা সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন সাইবার প্রতারণার অভিযোগে সিএমপি ও ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার সাতটি মামলা রয়েছে। এই দুই মামলায় এর আগে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক খালেদ হোসেন মামুন, চেয়ারম্যান বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন, মিজান, আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ প্রকাশ আরিফ এবং বড় রাজুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদোহাজারীতে মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ টর্নেডো