বাঁশখালীতে সামপ্রতিক বন্যা–পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, বন্যার পানি সাময়িকভাবে সরে গেলেও বন্যা পরবর্তী নানা অসুবিধার মধ্যে আপনারা থাকবেন। তার মধ্যে খাদ্য সহায়তাটা খুবই জরুরি। যতদিন আপনারা কাজে ফিরে যাবেন না, ততদিন আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আপনাদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। আমি দেখেছি কিছু বাড়িঘর এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা মেরামত করার মতো অবস্থায় নেই। আমরা তাদের জন্য কিছু ঢেউটিন ও টাকা পাঠিয়ে দিবো। আর আমি রাস্তার অভিজ্ঞতাও নিয়ে গেলাম। প্রকল্প পাঠালে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে এই রাস্তাও করা হবে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, যারা কৃষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরকে কৃষিকাজের জন্য নতুন করে চারা, ধানের বীজ ও সার দেয়া হবে। যারা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদেরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে আপনাদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরবো এবং বেশি বেশি সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা করবো। চাল বিতরণে কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে বাঁশখালীর জলকদর খালের খননকাজও পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী। এসময় তিনি বলেন, খাল খনন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও কৃষিবিপ্লব সাধনে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে খাল ও নদী খনন করা হয়নি। আমি জলকদর খাল খনন দেখে খুশি হলাম। এই খালটি দেশের ৫০টি মডেল খালের একটি হবে বলে আমার প্রত্যাশা। সারাদেশে চিহ্নিত ৫০টি বৃহৎ খালের মধ্যে বাঁশখালীর জলকদর খালকে একটি মডেল খাল হিসেবে খনন করা হবে। এর বাস্তবায়ন দেখতে আমি পুনরায় আপনাদের মাঝে আসব।
গতকাল বুধবার দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা এলাকার ফালুয়ান পাড়া খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন–বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি আকন, জেলা দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, ওসি মো. রবিউল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার, সিপিপির সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ রুবেল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন খানখানাবাদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সবুর চৌধুরী, বাহারছড়ার সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার লোকমান আহমদ, চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম বিন খলিল, কাথরিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান চৌধুরী, বাহারছড়ার চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস, খানখানাবাদ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম সিকদার প্রমুখ।
সাতকানিয়া প্রতিনিধি জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, সরকার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে রয়েছে। আমরা জনগণের সরকার। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সব সময় এই ধরনের আপদে–বিপদে দুর্গত সময়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকব। তিনি গতকাল বুধবার সাতকানিয়ায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন ও বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সব সময় জনগণের পাশে রয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আপনাদের পাশে আছে। প্রশাসন আপনাদের পাশে রয়েছে। যে সব রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো আমরা মেরামত করে দেব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো মেরামত করে দেব। গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকার জনগণের পাশে আছে। আপনারা কোনো ভয় করবেন না, চিন্তা করবেন না। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান মুজিব, নাজমুল মোস্তফা আমিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা নুরুল কবির ও জসীম উদ্দীন আবদুল্লাহ।











