ফাইনালের ওঠার মঞ্চে এসে এতদিনের চেনা পথটা একদম ভুলে গেল তারকায় ঠাসা দল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে–উসমান দেম্বেলে হয়ে গেলেন ভোঁতা, বিপরীতে স্পেন হয়ে উঠল আরও গোছানো। ফলাফল– হাইভোল্টেজ লড়াই হয়ে উঠল একপেশে। দিদিয়ে দেশঁর দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল লুইস দে লা ফুয়েন্তের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ডালাসে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম সেমি–ফাইনালে গোছানো ফুটবল খেলে ২–০ গোলের জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে পা রাখল স্প্যানিশরা।
বঙে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওইয়ারসাবাল। চলতি মৌসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তার। স্পেনের আর কোনো ফুটবলার এক মৌসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি। পরে দারুণ গোলে ব্যবধান গড়ে দেন ডিফেন্ডার পেদ্রো পাররো।
পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। শুরুতেই আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। ফর্মে থাকা এমবাপে–উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে রাখেন তারা।
বিশ্বকাপের আগের ম্যাচগুলিতে ফ্রান্সকে যতটা অপ্রতিরোধ্য দেখিয়েছিল, স্পেনের বিরুদ্ধে তেমন দেখাল না। কিছুটা অগোছালো মনে হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চাপ বজায় রেখে গিয়েছে স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বঙের মধ্যে তাল কেটে গিয়েছে এমবাপেদের।
শেষ চার দশকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারেনি ফ্রান্স। ১৯৮২ এবং ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। কিন্তু দু’বারই পশ্চিম জার্মানির বিরুদ্ধে হেরে যায় তারা। ১৯৮২ সালে হারতে হয়েছিল টাইব্রেকারে। ১৯৮৬ সালে ০–২ গোলে হেরেছিল ফ্রান্স। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সেটাই শেষ হার। এরপর ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়া (২–১), ২০০৬ সালে পর্তুগাল (১–০), ২০১৮ সালে বেলজিয়াম (১–০) এবং ২০২২ সালে মরক্কোকে (২–০) হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। আর এবার স্পেনের কাছে হেরে গেল২–০ গোলে।












