টানা ৮ দিন ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের বাসিন্দারা। অতি বৃষ্টি আর তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে স্টিমার ও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এ সময় জীবনের তাগিদে জরুরি প্রয়োজনে কাঠের তৈরি মালবাহী ট্রলার ও অনুমোদনহীন কাঠের তৈরি সার্ভিসবোট দিয়ে যাত্রীদের সাগর পাড়ি দিতে হচ্ছে। শুধু সাধারণ যাত্রী নয় জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রোগী নিয়ে স্পিডবোটে উত্তাল সাগর পাড়ি দিচ্ছে অনেকে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় গুপ্তছড়া ও বাঁশবাড়িয়া প্রান্তে শতাধিক গাড়ি আটকে আছে। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন সাইফুল ইসলাম নামে সন্দ্বীপ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জানান, স্টিমার, ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সার্ভিস বোটে করে সন্দ্বীপ আসেন। সাগর শান্ত থাকলেও বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের সারা পথেই ভিজতে হয়েছিল। একসময় চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে স্টিমার সার্ভিস ছিল সন্দ্বীপে। ২০০৮ সালের দিকে সন্দ্বীপের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দাবির প্রেক্ষিতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের সময় স্টিমার সার্ভিস চালু করেছিল বিআইডব্লিউটিসি।
এ বিষয়ে কিছুদিন পূর্বে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আজাদীকে জানান, তিন নম্বর সতর্কতা সংকেতের সময় কখনোই জাহাজ চলাচল করেনি। তবে অনেক সময় তিন নম্বর সিগনাল থাকলেও সাগর শান্ত থাকে। সেক্ষেত্রে বলা আছে বিআইডব্লিউটিসির স্থানীয় কনসার্ন অফিসার চাইলে স্টিমার চালাতে পারবেন। এদিকে সন্দ্বীপে টানা বর্ষণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ দুর্ভোগে রয়েছেন।
গত আট দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার সারিকাইত, মগধরা, মুছাপুর, গাছুয়া, পৌরসভার আংশিক এলাকা, সন্তোষপুর, আমানউল্লাহ ও হরিশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া মাইটভাঙ্গা, রহমতপুর, কালাপানিয়াসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। এতে মাছের ঘের, কৃষিজমি, গবাদিপশু এবং হাঁস–মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা সাংবাদিক ফছিহুল আলম আজাদীকে জানান, জলবদ্ধতার সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরতে গিয়ে তিনি দেখেন অকেজো স্লুইসগেট, বেড়িবাঁধের বাইরে খালের অংশ পলি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং খালের ভিতরে অংশ বেদখল হয়ে যাওয়া ও সংস্কার না করার কারণে মূলত এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় নগদ টাকা, টিন ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এসময় ইউএনও আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সন্দ্বীপে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজারেরও অধিক জনের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
এছাড়া উপজেলা বিএনপি যুবদল ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা খাল থেকে বাঁধ ও জাল অপসারণে কাজ করছেন। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসাইন ঠাকুর বলেন, সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার নির্দেশে আমরা জলাবদ্ধ এলাকায় গিয়ে কাজ করছি। যেখানে খালগুলো ভরাট ও জাল দেয়া আছে সেগুলো সরানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি।












