কক্সবাজারের পেকুয়ার বহুল আলোচিত শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফ হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আজম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিবিআই কক্সবাজার জেলার একটি দল চট্টগ্রাম নগরের বালুছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পিবিআইয়ের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) জাহেদ।
গ্রেপ্তার আজম উদ্দিন (৪৫) পেকুয়া উপজেলার সেকেরকিল্লাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি রমিজ আহমদের ছেলে এবং পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই জাহেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,পেকুয়ার শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফ হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আজম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য পরবর্তী কার্যদিবস নির্ধারণ করেছেন।
পেকুয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, আজম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে পেকুয়া চৌমুহনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের ৯ দিন পর পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের তিন ভাই বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে পেকুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত মোহাম্মদ আরিফ পেকুয়া সেন্ট্রাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মাতবরপাড়া এলাকার বজল আহমদের ছেলে ছিলেন। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে পুরো পেকুয়াজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলার অন্যতম আসামি আজম উদ্দিন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।












