লোক–বাউল শিল্পী মানস পাল চৌধুরীর গানের বই ‘গানে মিলে প্রাণ’–এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, সংগীত এমন এক জিনিস যা সকলকে একত্রিত করতে পারে। বিশ্বের যে কোনো দেশে সেটি যে ভাষারই হোক, যদি এর সুর, লয় ও তাল ঠিক থাকে এবং তা যদি শ্রুতিমধুর হয়, তবে যে কোনো সংগীতই উপভোগ করা যায়। সংগীত সহজাত হয়ে ধরা দেয় আমাদের কাছে। তিনি বলেন, মানস পাল চৌধুরী চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পীদের একজন। তিনি আজাদীর সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন। তার লেখা ও সুর করা গান শিল্পীরা গেয়ে শোনাচ্ছেন। এসব গান আমাদের প্রাণের জীবন্ত উৎস। এ বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন আমার স্নেহভাজন প্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. মাহবুবুল হক। আজ তাকেও স্মরণ করছি। এম এ মালেক বলেন, মানস পালের গানগুলোর মধ্যে আনন্দের বিষয় যেমন আছে, তেমনি আছে চিন্তার গভীরতার বিষয়। তিনি মাটি ও মানুষের শিল্পী। জীবন, পেশা, প্রকৃতি ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্পর্ক পাকাপোক্ত। গানের ভাব ও ভাষা, আবেদন, সুর এবং জীবনের নান্দনিকতায় তাঁর গান এ অঞ্চলে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে থাকবে।
এম এ মালেক গত শুক্রবার সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক কবি রাশেদ রউফ–এর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, সংগীতশিল্পী আবদুল মান্নান রানা, নাট্যব্যক্তিত্ব শিশির দত্ত, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক কবি অভীক ওসমান ও চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত। এছাড়াও ছিলেন নিয়তি চৌধুরী, ইমন পাল, সুস্মিতা সেনগুপ্তা প্রমুখ।
প্রফেসর রীতা দত্ত বলেন, মানস পাল চৌধুরী এক বিস্ময়। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। তাঁর গানের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা আছে, মাটির গন্ধ আছে, দেশপ্রেম আছে।
বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মানস পাল চৌধুরীর লেখা ও সুরে ১৭টি গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। দুই পর্বে বিভক্ত সংগীতানুষ্ঠানের প্রথম পর্বের শুরুতেই ‘যে দেশে জন্ম আমার, সে–দেশ আমার নয়, ও–কথা ভাবতে আমার মরণ যেন হয়’ গান নিয়ে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশ উদীচী–চট্টগ্রামের শিল্পীবৃন্দ। এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন শিল্পী সুস্মিতা সেনগুপ্তা, শারমিন হোসেন, প্রিয়াংকা দাশ, খাদিজা খাতুন বীথি, সুব্রত ধর, নুসরাত ইয়াসমিন, সুপ্রিয়া লাকী, স্বর্ণালী আকতার। এরপর দ্বিতীয় পর্বে আঞ্চলিক গান পরিবেশন করেন উদীচী–চট্টগ্রামের শিল্পীবৃন্দ, শিল্পী শিমুল শীল, শিউলী মজুমদার, পুষ্পিতা দত্ত, প্রেমসুন্দর বৈষ্ণব, কোহেলী দাশগুপ্তা, মো. হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ নগরের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।












