যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত চীনা ধনকুবের ব্যবসায়ী গুয়ো ওয়েনগুই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সোমবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
২০২৪ সালে একটি জুরি সর্বসম্মতিক্রমে ওয়েনগুইকে প্রতারণা, বিভিন্ন নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন, ওয়্যার ফ্রড এবং অর্থপাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে। এক দশক আগে চীন থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া গুয়ো ওয়েনগুই নিজেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক এবং গণতন্ত্রের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করতেন। তিনি মার্কিন ডানপন্থি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্টিভ ব্যাননের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।
দুইজন মিলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরোধিতায় একটি রাজনৈতিক ও লবিং সংগঠনও গঠন করেন। হো ওয়ান কৌক ও মাইলস গুয়ো নামেও পরিচিতি পেয়েছেন গুয়ো ওয়েনগুই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশায় যারা গুওকে বিশ্বাস করেতেন, তিনি তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন চালাতেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি শন এস. বাকলি বিবিসি–কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া বৈধ নানা সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে গুয়ো হাজারো মানুষের বিশ্বাসকে নিজের লোভ চরিতার্থ করতে কাজে লাগিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আদালতের আজকের এই রায় প্রমাণ করে, খ্যাতি বা সম্পদ কাউকে আইনের উর্ধ্বে নিয়ে যায় না। যারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজেদের ধনী করে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। চীন ছাড়ার আগে গুও একজন সফল আবাসন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দেশটির সরকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরে শীর্ষ চীনা কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চান। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি চীনের কমিউনিস্ট সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত হন এবং প্রবাসী চীনা সমপ্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি অনলাইন অনুসারীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্পের নামে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেন। কৌসুলিরা বলেছেন, এই অর্থ দিয়ে গুয়ো প্রায় ৫০ হাজার বর্গফুটের প্রাসাদ, ১০ লাখ ডলারের ল্যাম্বরগিনি এবং ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল ইয়ট কিনেছিলেন। তবে গুয়ো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সংগৃহীত অর্থ তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে মিলে গুয়ো ২০২০ সালে নিউ ফেডারেল স্টেট অব চায়না নামে একটি প্রচার শুরু করেন, যার লক্ষ্য ছিল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শাসনের অবসান ঘটানো।
২০২০ সালেই কনেটিকাটে গুয়োর ইয়ট থেকে স্টিভ ব্যাননকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র– মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য গঠিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের দাতাদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ব্যানন পরে প্রতারণার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং তিন বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সাজা পান। তাছাড়া সীমান্ত দেয়াল–সংক্রান্ত ফেডারেল মামলায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ মুহূর্তে ক্ষমা ঘোষণা করায় সেই মামলার বিচার আর আগায়নি।








