চট্টগ্রামের আয়তনে বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের খসড়া সিদ্ধান্তের পর থেকে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার সদর দপ্তরটি ভুজপুরে না করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাটের মাঝামাঝি যৌক্তিক স্থানে স্থাপন এবং সুয়াবিল ইউনিয়নকে আগের ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গেই বহাল রাখার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করছেন এই তিন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফটিকছড়ির হেয়াকো–ফেনি–ঢাকা–খাগড়াছড়ি মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি পয়েন্টে একযোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একটি কুচক্রী মহল কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়াই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ইউনিয়নকে যুক্ত করে ভুজপুরকে মধ্যবর্তী স্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা চক্রান্ত করে ভুজপুরে উপজেলা সদর দপ্তর বানানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি– নতুন উপজেলা সদর দপ্তর ভুজপুরে না হয়ে ভৌগোলিক সুবিধাজনক স্থান তথা নারায়ণহাট এবং দাঁতমারার মাঝামাঝি কোনো মধ্যবর্তী স্থানে করতে হবে। তা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন সংগ্রামে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। এদিন সকালে দাঁতমারার হেয়াকো বাজার এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল, নুরুল আমিন আজাদ, একরামুল হক একরাম, হাসান শামসুদ্দিন, ইদ্রিস মিয়া ইলিয়াছ, মুফতি হাবিব উল্যাহ আজিজী, সাংবাদিক কামাল উদ্দিন, জসিম মেম্বার, আলমগীর হোসেন, নুরুল আলম প্রমুখ।
অন্যদিকে দাঁতমারা বালুটিলা বাজারে স্থানীয় জনতা মহাসড়কের ওপর টায়ার, গাছ ও বাঁশ জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। এই অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি–ঢাকা রুটের দূরপাল্লার বাস–ট্রাকসহ সব ধরনের যান চলাচল প্রায় ১ ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মো. মনির হোসেন মিয়াজী, পারভেজ, শাহাদাত হোসেন, মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম।
নারায়ণহাটে স্কুল শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জনতা নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাস্টার আবুল বশর, মাস্টার শফিউল আলম, কামাল উদ্দীন শিকদার, এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বেলাল উদ্দিন, মোজাহের আলম, নাছির কোম্পানি, ইঞ্জিনিয়ার আরমান হোসেন, আবছার উদ্দিন, আবু তাহের, ফরিদ উদ্দিন মাসুদ, সাজ্জাতুল হাসনাত ইমন, রবিউল হাসান তানজিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
একই দিনে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে নামেন সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তারা নতুন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলার সাথেই সংযুক্ত থাকার দাবিতে মানববন্ধন করেন। সুয়াবিলবাসীর যুক্তি– বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে সুয়াবিল ইউনিয়নের দূরত্ব মাত্র ৪–৫ কিলোমিটার। এত কাছাকাছি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছেড়ে তাদের দূরবর্তী নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
আজ ১ জুলাই সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এই নতুন উপজেলা গঠনের খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এই সভার ঠিক আগের দিনই নিজেদের অধিকার আদায়ে রাস্তায় নামলেন তিনটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিকার সভায় যদি স্থানীয় জনগণের এই যৌক্তিক দাবি ও আবেগকে মূল্যায়ন না করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে পুরো উত্তর ফটিকছড়ি অচল করে দেওয়া হবে।












