করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং কিছুক্ষেত্রে করছাড়ের ৬৪টি সংশোধনীসহ অর্থ বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগ তথ্য প্রকাশ–সংক্রান্ত বিধান প্রত্যাহার।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাজেট আলোচনার সময় দেওয়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেটের কয়েকটি প্রস্তাবে সংশোধনী আনেন। এর মধ্যে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ ও ২০২৭–২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা, ২০২৮–২৯ ও ২০২৯–৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০–৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধনীর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। খবর বাংলানিউজের। বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিনিয়োগ তথ্য প্রকাশ–সংক্রান্ত প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে, কারণ এটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে অনেক জমি প্রকৃত বাজারমূল্যের পরিবর্তে মৌজা মূল্যে নিবন্ধিত হওয়ায় করদাতাদের জটিলতা থেকে রক্ষা করতেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে জনমতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার এটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আরও দুটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এগুলো হলো–বেশিরভাগ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (টিআইএন) সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং বণ্টন দলিল (পার্টিশন ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব।
অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর হার বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। তিনি পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর–সুবিধা আরও সমপ্রসারণের প্রস্তাব দেন। এর ফলে ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি বেতনভিত্তিক আয়ও করমুক্ত থাকবে। চিংড়ি খাতকে সহায়তা দিতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজ, অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন তিনি। দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক–সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেন।












