ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি মেসি–রোনালদো এই দুজনের দ্বৈরথ। বছরের পর বছর দুজনের লড়াই এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন গোটা দুনিয়াকে রোমাঞ্চের জোয়ারে ভাসিয়েছে, তেমনি ফুটবলকে করেছে সমৃদ্ধ। কিন্তু বড় কোনো টুর্নামেন্টে কখনও মুখোমুখি হননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে যদি সেই দেখা হয়ে যায় তাদের। তাহলে কী হবে। রোনালদো বললেন, তাহলে দারুণ কিছুই হবে। এবারের বিশ্বকাপের যা ছক, তাতে নিজ নিজ গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে গেলে এবং পরের ধাপে এগোতে থাকলে কোয়ার্টার–ফাইনালে দেখা হবে পর্তুগাল ও আর্জেন্টিনার। সম্ভাব্য সেই পরিক্রমায় অবশ্য কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে এখন। আর্জেন্টিনা এক ম্যাচ বাকি রেখেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। তবে পর্তুগাল প্রথম ম্যাচে ড্র করায় এখন আছে দুইয়ে। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট চার। এই গ্রুপে দুই ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কলম্বিয়া। গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়াকে হারাতে পারলে অবশ্য রোনালদোরা শীর্ষে থাকবেন। সেক্ষেত্রে রোনালদো–মেসির মহারণের মঞ্চ তৈরি হবে। সেই সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার জন্য উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মঙ্গলবার জিততেই হতো পর্তুগালকে। সমালোচনা ও চাপের পাহাড় ঠেলে এই ম্যাচে দুটি গোল করেন রোনালদো। ৫–০ গোলের জয় পায় তার দল।
এদিকে এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চলেছেন মেসি। প্রথম ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে রোনালদোর জন্যও এটি ছিল রেকর্ডের ম্যাচ। ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি, যা একমেবাদ্বিতীয়ম। ৪১ বছর ১৪০ দিন বয়সে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে জোড়া গোলের রেকর্ডও এখন তার।
পর্তুগাল কোচ রবের্তো মার্তিনেস মনে করেন, নিজেদের মধ্যে লড়াই দুই মহাতারকাকে আরও এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। পর্তুগাল কোচ মার্তিনেস মনে করেন, নিজেদের মধ্যে লড়াই তাদের সেরাটা বের করে আনার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই দুই খেলোয়াড় ফুটবলের উন্নতি করেছে আর নিজেদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের দ্বৈরথ গুরুত্বপূর্ণ। রোনালদো জাতীয় দলের জন্য একজন আইকন ও রোল মডেল। মাঠে ও ড্রেসিং রুমে তার আচরণ দারুণ। শুধু গোল করা নয়, পাস, সুযোগ তৈরি এসব নিয়ে বিশ্বকাপে সে একজন রোল মডেল।’
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বে দাপট দেখিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্যবার মুখোমুখি হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সরাসরি লড়াই কখনো দেখা হয়নি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এই বিশ্বকাপে নিজের সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন মাঠেই। অন্যদিকে ৩৯ বছরে পা দেওয়া মেসিও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। ফুটবলপ্রেমীরা এখন থেকেই অপেক্ষা করছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই তারকার শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথ দেখার আশায়। রোনালদো অবশ্য ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ম্যাচটির মাহাত্ম্যকেই বড় করে দেখছেন। তিনি বলেন, যদি এমন ম্যাচ হয়, তাহলে সেটি শুধু দুই খেলোয়াড়ের লড়াই হবে না; বরং ফুটবল ইতিহাসের একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। সময়ের হিসেবে হয়তো এটাই মেসি–রোনালদো যুগের শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু দুজনের পারফরম্যান্স বলছে, বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র। একজন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা, অন্যজন ছয় বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার। এখন শুধু অপেক্ষা ফুটবল কি উপহার দেবে সেই স্বপ্নের মহারণ, যেখানে শেষবারের মতো মুখোমুখি হবেন মেসি ও রোনালদো?












