যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারকে লেবাননের ওপর সামরিক হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও তা উপেক্ষা করে দক্ষিণ লেবাননে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত ও নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন। গতকাল শুক্রবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। খবর বাংলানিউজের।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে লেবাননের জাতীয় গণমাধ্যম এই হামলাকে সামপ্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যরাতের পর একের পর এক আবাসিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করা হয়।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, প্রথমে নাবাতিহ শহর, কাফার জুজ, কাফার রেমান ও জেবদিনসহ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে যুদ্ধবিমান থেকে কাফার তিবনিত ও রায়হান পাহাড় এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় শুধু নাবাতিহ শহর ও হারুফ এলাকাতেই অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আল–শারকিয়া ও দুয়ের এলাকার মধ্যবর্তী একটি বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। কাফার সির এলাকায় আরেকটি হামলায় নিহত হন আরও তিনজন।
অন্যদিকে, দুয়ের পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে মোটরসাইকেলের এক আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অপর একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা লেবানন–ইসরায়েল সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।












