বিশ্ব মঞ্চে অভিষেকে শুরুতেই গোলের দেখা পেলেন ফিলিঙ মেচা, এগিয়ে গেল জার্মানি। জবাব দিতে বেশি সময় নিল না বিশ্বকাপের ইতিহাসের ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাও। তবে বাকি সময়ে আর কোনো চমক তারা দেখাতে পারল না। তাদের জালে একের পর এক বল পাঠিয়ে বিশাল জয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করল জার্মানি।
শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭–১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে, ২০১৪ সালে। সেবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে ৭–১ ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সেই স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনলো জার্মানরা। গতকাল হিউস্টনে কুরাসাওকেও ৭–১ গোলে হারাল জার্মানি। মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার একটি দেশ কুরাসাও। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই দ্বীপ দেশটির নামও জানতেন না অনেকেই। স্বপ্নের যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল তারা। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রূঢ় বাস্তবের মুখোমুখি হতে হল। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা ৭২ ধাপের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা কুরাসাও সমর্থকরাও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি।
ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানির হাতে। ৬ মিনিটে গোল করেন ফেলিক্স মেচা। তখন মনে করা হয়েছিল, জার্মানি সহজেই এই ম্যাচ জিতবে। কিন্তু নাটক তখনও শুরু হয়নি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেন লিভানো কমেনেন্সিয়া। কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথম গোল। প্রতি আক্রমণ থেকে যে ভাবে গোল করেন কমেনেন্সিয়া, তা প্রশংসা করার মতোই।
ওটাই ছিল জার্মানদের স্বভিমানে আঘাত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দিল। বাকি যে সময়টা খেলা হল, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন– সবেতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। সাতটি গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার। এতেই বোঝা গিয়েছে জার্মানি কতটা দলগত খেলা উপহার দিয়েছে।
ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের পর থেকেই জার্মানি এবং কুরাসাওয়ের ফুটবলের গুণমানের অভাব স্পষ্ট হয়ে যায়। জার্মানি ছেলেখেলা করতে থাকে কুরাসাওয়ের রক্ষণ নিয়ে। ইচ্ছেমতো তারা আক্রমণ করেছে, গোল করেছে। কিন্তু কুরাসাওয়ের মনোবল তুবড়ে দিতে পারেনি।
বড় দলের বিরুদ্ধে ছোট কোনও দল খেলতে নামলে সাধারণত ঘর সামলানোর দিকেই নজর দেয় বেশি। কুরাসাও যে আলাদা কিছু করেছে তা নয়। কিন্তু অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল বা নেতিবাচক ফুটবলের রাস্তায় তারা হাঁটেনি। বল পেলে উড়িয়ে দেওয়ার নীতি নয়, তারা চেষ্টা করেছে পাস খেলে, লম্বা বল খেলে, হিসেবে ফুটবল খেলে আক্রমণে উঠতে। দুই দলের ফুটবলারের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার ফারাকের কারণে তারা সফল হয়নি। কিন্তু লড়াইয়ের রাস্তা থেকে সরে আসেনি। দিনের শেষে এটাই কুরাসাওয়ের বড় প্রাপ্তি।
জার্মানিও এই ম্যাচ থেকে অনেকটা আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে। গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডর। শক্তির বিচারে জার্মানির গ্রুপ শীর্ষেই শেষ করার কথা।









