চট্টগ্রাম নগরীতে গতকাল দুপুরে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তি হয়েছে পথচারীদের। জুমার পূর্ব মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ হয়েছে মুসল্লিদের। বৃষ্টির কারণে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশের কয়েকটি স্থান এবং বাকলিয়া ইছাইক্যার পুল এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে পানিও নেমে যায়। বৃষ্টি সময় নগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসন। এ সময় তিনি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আমবাগান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। তবে একই সময়ে পতেঙ্গা কেন্দ্রে রেকর্ড করা বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ মিলিমিটার।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ রোববার চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও পাহাড় বা ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গতকাল বৃষ্টির মধ্যে নগর পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে বৃষ্টির পানি যাতে কোথাও জমে না থাকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন এবং খাল, নালা–নর্দমার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থানগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং পানি প্রবাহে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মেয়র জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও নগরীর অধিকাংশ এলাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়েছে। ফলে কোথাও উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। ভবিষ্যতেও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।












