চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু ভাতার কার্ড নয়, এটি একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি। এই কার্ড কোনো দলের নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়। এটি দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য।
গতকাল রোববার হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দন ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণ কার্যক্রমের তৃতীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই–বাছাই কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সুবিধাভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত উপকারভোগীদের সহায়তা নিশ্চিত করা। এজন্য মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানবিকতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের ভুল বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম হতে হবে ‘জিরো এরর’। কেউ যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য শতভাগ নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। যারা পিছিয়ে আছে, তাদের মূল ধারায় নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের মায়েরাই সন্তানের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর চিন্তা করেন। তাই পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নিতে নারীদের ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সবাই নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, সন্তানদের দিকে যথেষ্ট নজর দিতে পারছি না। অথচ তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
এ সময় জেলা প্রশাসক সুবিধাভোগী মুক্তা দাশ, শোভা দাশ ও নীলা দাশের সঙ্গে কথা বলেন। সরকার প্রদত্ত ভাতা সন্তানদের লেখাপড়া ও ছোটখাটো ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান, হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং এ কার্যক্রমে নিয়োজিত সমাজকর্মীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।












