চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহৃত হওয়ার পর ইসরাত জাহান অপি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল রবিবার উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধামাইরহাট-রাজারহাট সংযোগ সড়কের ঘাগড়াখাল ব্রিজ সংলগ্ন একটি বাঁশঝাড়ে ওই নারীকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ইসরাত জাহান অপি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ২ নং কুচাই শেখপাড়ার কামাল উদ্দিন হেনু মিয়া ও মোছাঃ শাহনা বেগমের মেয়ে। তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ আব্দুশ শাকুর জুয়েল (পিতা: মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, মাতা: জামিলা আক্তার), যার বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ থানার সরিষা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে এসে গত ২২ মার্চ ২০২৬ রবিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বান্ধবী সানজিদা ইয়াসমিন আঁখির বাসায় আশ্রয় নেয়। ০৪ এপ্রিল রাতে প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনতে বের হলে সেখান থেকে ইসরাত জাহান অপিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। বাড়িতে ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় বান্ধবী আঁখি তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পান নি।
এর পরদিন ০৫ এপ্রিল রবিবার রাঙ্গুনিয়ার ঘাগড়াখাল ব্রিজ সংলগ্ন বাঁশঝাড়ে এই নারীকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যায়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান অপির বান্ধবী সানজিদা ইয়াসমিন আঁখি এবং তিনিই প্রথমে লাশ শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তার মাধ্যমেই পুলিশ নিহতের পরিবারকে খবর দেয়। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নিহতের পরিবার জানায়, তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তিনি সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ তার বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “আলম মটরস‘‘ তিনি দেখাশোনা করতেন। কিন্তু ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ আসাদ উদ্দিনের ক্রমাগত আক্রমণ, নির্যাতন, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও জীবননাশের হুমকির কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে প্রাণভয়ে দেশত্যাগ করে প্রথমে দুবাই চলে যান। পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেশে ফিরে এলে প্রতিপক্ষরা তাকে আবারও বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে, এরপর তিনি বাধ্য হয়ে পুনরায় দেশ ত্যাগ করেন।
তারা আরও জানান, “স্ত্রীকে দেশে রেখেই বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হয় জুয়েল। এরপর থেকেই তারা অপিকে বিভিন্নভাবে বারবার হয়রানি ও অপহরণের চেষ্টা করে আসছিল। তার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জুয়েল তাকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তার বান্ধবী সানজিদা ইয়াসমিন আঁখির বাসায় পাঠিয়েছিল। আমদের ধারণা তারা অপির গতিবিধির ওপর নজরদারি করছিল এবং সুযোগ পেয়ে সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে তারা জানায়, বিচার চেয়ে লাভ নেই, বাংলাদেশে বিচার পাওয়া যায় না। আমরা এর বিচার সৃষ্টিকর্তার ওপর ছেড়ে দিয়েছি।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বাঁশঝাড়ে এক নারীকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল করে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর আমরা মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।










