গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের চট্টগ্রামের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, চলমান প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ভিন্ন এক শহরে পরিণত হবে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার তাগাদা দিয়ে বলেন, প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে নগরবাসী এর সুফল পাবেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলেও উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তিনদিনের সরকারি সফরে গত বুধবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান। রাতেই তিনি জেলা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারং কন্সট্রাকশন ব্রিগেড, গণপূর্ত অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের প্রতিনিধিগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, লিংক রোডসহ চউকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সমাপ্তির সময়কাল সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে চউকের উপ–প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আবু ঈসা আনসারী চট্টগ্রামের সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের উপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের অধিকাংশ বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাকি রয়েছে। ফলে নগরবাসী এখনো এসব প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না। প্রকল্পসমূহ শতভাগ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আধুনিক শহরে পরিণত হবে, যার সুফল ভোগ করবে নগরবাসী।
জমি জটিলতার কারণে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর দ্রুত সমাধানে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু প্রকল্প শেষ করার। কিন্তু এখন সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গত আট–দশ বছর ধরে প্রকল্পগুলো টেনে নেওয়া হয়েছে। এখন এগুলোর সমাপ্তি প্রয়োজন, যাতে জনগণ পুরোপুরি সুফল পায়।
গতকাল সকালে মন্ত্রী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এসময় চউক চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি চউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সভায় বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিনও উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম ‘সম্ভাবনার বাণিজ্যিক রাজধানী ও চট্টগ্রাম’ শীর্ষক একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণ, কস্ট–বেনিফিট বিশ্লেষণ এবং প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত আর্থিক ও সামাজিক রিটার্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করেই উন্নয়ন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
গণপূর্তমন্ত্রী ভবন নির্মাণে কোন ধরণের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে উল্লেখ করে বলেন, আগে শুধু স্থাপত্য নকশা দিয়ে ভবনের প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন থেকে স্থাপত্য, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা একসঙ্গে জমা দিতে হবে। এছাড়া অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে ভবনকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না এবং ওই সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ধরনের ইউটিলিটি সংযোগও মিলবে না।
সভায় অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে যথাযথ ফিজিবিলিটি স্টাডির উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তথ্যভিত্তিক ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।










