চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২১ পদের সবকটিতেই জয় পেয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা। এরমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ টিতেই ফোরামটির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। গতকাল সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ, শেষ হয় বিকাল ৪ টায়। ২১ টি পদের বিপরীতে সম্পাদকীয় একটিসহ মোট ১২ পদে নির্বাচন হয়। বাকী ৯টি পদে একক প্রার্থী ছিলেন। জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে যখন বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামপন্থী আইনজীবীরা ভোট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখন আদালত পাড়ার নানা জায়গায় স্লোগানে স্লোগানে মেতে ছিলেন আওয়ামীপন্থী ও জামায়াতে ইসলামীপন্থী আইনজীবীরা। আইনজীবী শাপলা ভবনের গেটে বসে নির্বাচন বিরোধী গান গাইতেও দেখা গেছে একটি গ্রুপকে। সকালের দিকে জয় বাংলা বলার কারণে এক আইনজীবীর ওপর ছড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সংবাদ প্রচারে বাধা ও ধাক্কা দিয়ে একটি বেসরকারি চ্যানেলের সাংবাদিককে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ নির্বাচনে ১ টি সম্পাদকীয়সহ মোট ১২ টি পদে জামায়েতে ইসলামীর ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগের দিন তথা গত বুধবার তারা সকলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তারও আগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয় আওয়ামীপন্থীরা। গতকালের নির্বাচনে সভাপতি পদে তারিক আহমদ, সিনিয়র সহসভাপতি পদে সেলিমা খানম, সহসভাপতি পদে নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মঈনুদ্দীন নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক পদে মো. নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক পদে আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক পদে তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিলকিছ আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু ও তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মো. লোকমান শাহ জয়ী হন। সদস্য পদে যারা জয়ী হয়েছেন তারা হলেন– আলী আকবর, দিদারুল আলম, দিলদার আহাম্মদ ভূঁইয়া, ইকবাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসান, মোক্তার উদ্দিন, মমিনুল হক, সাদিয়া খান, সাইফুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ এর নির্বাচনের জন্য গত ১ মে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের জন্য দিন ধার্য্য ছিল গত ৪ মে। সেদিন আওয়ামী পন্থীরা সাধারণ আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়েও ব্যর্থ হন। তাদেরকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি– এমনই অভিযোগ। একদিন পর তথা ৬ মে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ সমিতির অডিটরিয়ামে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে অভিযোগ করা হয় যে, বৈধ ভোটার তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি প্রার্থীদেরকে ভোটার তালিকাও সরবরাহ করা হয়নি জানিয়ে বলা হয়, তফসিল অনুযায়ী ৫ মে বিকাল ৫ টার মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ কর্তৃক। নির্বাচন বর্জনের উক্ত ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশন নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় তফসিল ঘোষণার জন্য তলবি সভা আহবান করে সমিতির কাছে সম্প্রতি একটি আবেদন করে। আবেদনটিতে ১৬৬ জন আইনজীবী স্বাক্ষর করেন। গত মঙ্গলবার আবেদনটির উপর অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। সভায় কণ্ঠ ভোটে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের উক্ত প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। তলবি সভা আহ্বান করার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নির্বাচনের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থও হয়। চট্টগ্রামের যুগ্ম সিভিল জজ আদালতে গত ১৪ মে তারা একটি মামলা দায়ের করেন। এতে পরিষদটির প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলমসহ বেশ কয়েকজন বাদী হয়েছেন। ২ জন নির্বাচন কমিশনারসহ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এতে বিবাদী করা হয়। গত বুধবার এ মামলার শুনানি শেষে আদালতের পক্ষ থেকে উক্ত নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রৌশন আরা বেগম দৈনিক আজাদীকে বলেছেন, মোট ২ হাজার ১৭৪ জন ভোটার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।












