ট্যাক্সের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেব না : মেয়র

রাজস্ব আদায় বাড়াতে চসিকের একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত ‘বড় করখেলাপিদের তালিকা প্রণয়ন করে ব্যবস্থা’ রেলওয়ে থেকে চসিকের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৫৪ কোটি টাকায়

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২১ মে, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

রাজস্ব আদায় বাড়াতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছেযে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে ওসব প্রতিষ্ঠান যে মন্ত্রণালয়ের অধীন সেই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে চিঠি দেয়া; একইভাবে তা অবহিত করা হবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। এছাড়া বড় করখেলাপিদের তালিকা প্রণয়ন করে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বাণিজ্যিক স্থাপনা। ইপিজেড এলাকার করযোগ্যতা যাচাই ও কর সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের সাথে জড়িত কর্মীদের দেয়া হবে প্রণোদনা। গতকাল বুধবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাজস্ব বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে কর্পোরেশনের বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। এসব বকেয়া আদায় না হলে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে না। এ সময় রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বকেয়া আদায়ের জন্য অবিলম্বে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের কাছে ডিও লেটার প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ফাইভ স্টার হোটেল, মার্কেট, গার্মেন্টস কারখানা ও কন্টেনার ডিপোগুলোর হোল্ডিং ট্যাক্স দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন (রিঅ্যাসেসমেন্ট) করতে হবে।

কর আদায়ে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাশত করা হবে না জানিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, আমি ট্যাক্সের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেব না। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিশোধ করছে না, তাদের তালিকা তৈরি করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি মাসের শুরুতে নিয়মিত সমন্বয় সভা করে আমাকে অগ্রগতি জানাবেন। এ সময় তিনি নগরের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও মাঠমুখী হওয়ার নির্দেশ দেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং বাণিজ্যিক রাজধানী হলেও হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে রাজস্ব আদায় এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। এ অবস্থা পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে।

মেয়র বলেন, নগরবাসীর করের টাকাই নগর উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ নগরে রূপান্তর করা সম্ভব।

সভায় রাজস্ব বিভাগের উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব এখনো আদায়ের বাইরে রয়ে গেছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছেব্যবসায়ীদের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি, কর ফাঁকির প্রবণতা এবং রাজস্ব বিভাগের লজিস্টিক ও জনবল সংকট।

সভায় চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, রাজস্ব আদায়ে কাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে বাজেট প্রণয়নের সময় গৃহকরের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ কর পরিশোধ করতে পারে না। এছাড়া জনবল সংকটও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত পরিমাণ কর আদায় সম্ভব হয় না। যেমন, রেলওয়ের ক্ষেত্রে প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও বাজেটে কম বরাদ্দ থাকায় তা পর্যাপ্ত পরিমাণে আদায় করা যাচ্ছে না, ফলে বকেয়া জমে বাড়ছে। এভাবে জমতে জমতে রেলওয়ে থেকে পাওনা ৫৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ছয় মাস পূর্ণ করলেন ডিসি, দিলেন নিজের কার্যক্রমের বিবরণ
পরবর্তী নিবন্ধক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস