আমার কোনো বক্তব্যে গ্রাফিতি অঙ্কনের বিরোধিতা খুঁজে পাবেন না : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১৯ মে, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আজ পর্যন্ত আমার কোনো বক্তব্যে গ্রাফিতি অঙ্কনের বিরোধিতা খুঁজে পাবেন না। আমি বরং বলেছি, গ্রাফিতি হোক নান্দনিকভাবে, যাতে মানুষের নজরে পড়ে এবং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। টাইগারপাস এলাকা শহরের প্রবেশমুখ হওয়ায় এখানে বিদেশি কূটনীতিক ও বিনিয়োগকারীরা আসেন। তাই এ এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আগস্টের চেতনাকে ধারণ করে যারা গ্রাফিতি করতে চায়, তারা অবশ্যই করবে। আর্ট কলেজের শিক্ষার্থী ও দক্ষ শিল্পীদের দিয়ে এগুলো করলে শহরের সৌন্দর্য আরও বাড়বে।

তিনি গতকাল বিকালে টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এর আগে দুপুরে একই জায়গায় প্রেস ব্রিফিং করেন মেয়র। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শাহাদাত দাবি করেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। এসময় মেয়রের নির্দেশে জুলাই আগস্ট বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে ডাহা মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।

বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রাফিতি করার বিষয়ে যোগাযোগ করেছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।

ডা. শাহাদাত বলেন, যারা গ্রাফিতি করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই করবে, তবে সেটা যেন দৃষ্টিনন্দন হয় এবং কাউকে অযথা দোষারোপ বা মিথ্যাচারের মাধ্যম না হয়। আমরা সমপ্রীতি, ঐক্য ও সাম্যের শহর গড়তে চাই। কোনো ধরনের অনিরাপত্তা বা বিভাজনের রাজনীতি আমরা চাই না। সবাই মিলে নিরাপদ ও সুন্দর নগর গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন পিলার ও দেয়ালে পোস্টার লাগিয়ে নোংরা করা হয়েছে। যেসব জায়গায় পুরনো গ্রাফিতির ওপর পোস্টার লাগানো হয়েছে, সেসব স্থান পরিষ্কার করে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার আহ্বান জানান তিনি। মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে থেকে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় ভালো উদ্যোগের পাশে থাকব। প্রয়োজন হলে আর্থিক সহযোগিতাও করব।

এসময় দুপুরে শিক্ষার্থী পরিচয়ে টাইগারপাসে গ্রাফিতি আঁকতে আসাদের পুলিশ বাধা দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, পুলিশ একটি আলাদা সংস্থা। তারা হোম মিনিস্ট্রির অধীনে কাজ করে। গত রাতের (রোববার দিবাগত রাত) ঘটনার প্রেক্ষিতে তারা ১৪৪ ধারা জারি করেছিল। আমরা আইনকে সম্মান করি এবং কাউকে সংঘাতে জড়াতে চাইনি।

এসময় মেয়র দাবি করেন, দুপুরে একটি ভিডিওতে পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন তরুণীর বাকবিতণ্ডা দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার অনুরোধ জানান। পরে পুলিশ কমিশনার তাকে জানান, ঢাকা থেকে অনুমতি পাওয়ার পর ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে দুপুরে মেয়র বলেন, জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য কখনো কোনো নির্দেশ দিইনি এবং ভবিষ্যতেও দিব না।

মেয়র বলেন, নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিভিন্ন পিলার ও দেয়াল থেকে পোস্টার ব্যানার অপসারণ ও রং করার কাজ করে থাকে। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে রং করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টার দিয়ে ঢাকা ছিল এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।

তিনি বলেন, জুলাই আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। এ সময় ২৪এর আগস্টে মেয়র তার বাসভবনে আগুন দেয়ার কথা বলেন। একপর্যায়ে আবেপ্লুত হয়ে পড়েন।

মেয়র বলেন, কেউ গ্রাফিতি করতে চাইলে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি আঁকতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থায়নের আশ্বাসও দেন মেয়র। তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্ন হাতের লেখার চেয়ে পরিকল্পিত ও শৈল্পিক গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি রক্ষা করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, ৪ আগস্ট যখন অনেকে হাসপাতালে আহতদের নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন আমার উদ্যোগে ট্রিটমেন্ট ও হলি হেলথ হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করাই। এছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিই। শহীদ পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে।

লালখান বাজার এলাকায় সোমবার রাতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সংঘর্ষ এড়াতে নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে আসি। তিনি বলেন, এই শহরটা সবার। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর শহর গড়তে চাই। সাংঘর্ষিক কোনো কিছুর জন্য আমরা আগ্রহী নই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১১ ঘণ্টা পর সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
পরবর্তী নিবন্ধকতবার আমি মার খেয়েছি ড্রাইভারদের : গেটম্যান