দীপালী ভট্টাচার্য স্মারকগ্রন্থ : এক মহীয়সীর জীবনালেখ্য

নিজামুল ইসলাম সরফী | সোমবার , ১৮ মে, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

মহীয়সী নারী দীপালী ভট্টাচার্য ছিলেন এই জনপদের একজন প্রাণবন্ত সৃষ্টিশীল মানুষ। পেশায় শিক্ষকতা সফল ছিলেন। লেখালেখির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। লিখেছেন ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, রূপকথা, ভ্রমণকাহিনি, ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল ৭৬ বছর বয়সে দীপালী ভট্টাচার্য ইহলোক ত্যাগ করে গেছেন।

জীবৎকালে আমরা এই মহৎপ্রাণ সাহিত্যিকের যথাযথ মূল্যায়ন দিতে না পারলেও ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম একাডেমি থেকে নেছার আহমদ সম্পাদিত ‘দীপালী ভট্টাচার্য’ স্মারকগ্রন্থ। একটি যথাযথ মূল্যায়নধর্মী প্রকাশনা হিসেবে তাঁকে জানতে ও তার সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি সম্মান জানানোর একটি প্রয়াস লক্ষ্যণীয়। এটি এই মহীয়সী নারীর জীবনালেখ্য হিসেবে আগামী দিনে তাঁর মূল্যায়ন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন লেখালেখি করছেন প্রাবন্ধিক, গবেষক নেছার আহমদ। সাংগঠনিক কাজেও পারদর্শী তিনি। ২৬টি গ্রন্থের প্রণেতা নেছার আহমদ সম্পাদনা করেন শিল্প সাহিত্য অর্থনীতি সমাজভাবনামূলক পত্রিকা শিল্পশৈলী’। দীপালী ভট্টাচার্য স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনার মাধ্যমে সমাজের প্রতি নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় দিলেন নেছার আহমদ ।

দীপালী ভট্টাচার্য স্মারক গ্রন্থে বিভিন্ন জন তাদের স্মৃতিগুলো বলেছেন। লিখেছেন আনোয়ারা আলম: সাধারণের মাঝে অসাধারণ, রীতা দত্ত বলেছেন শিশুদের জন্য লিখেছেনযা বড়রা পড়তেন সমান আগ্রহ নিয়ে, এলিজাবেথ আরিফা লিখেছেন দীপালীদি ও মেহেরুন্নেসা রশিদ ছিলেন অভিন্ন হৃদয়। ধর্মীয় ব্যবধান ছিল না। শাহ আলম নিপু: মধুর সম্ভাষণে সবাইকে আপন করে নিতেন, জাহাঙ্গীর মিঞা: সৃষ্টিশীলতা ও মা লঙ্কিতায় যে আলো জ্বালিয়েছেন তা কখনো নীরবে না, বিপুল বড়ুয়া: ৮১৬ পৃষ্ঠার পথ চলিতে, নির্বাচিত রচনাবলি বের হয় ২০২২ সালে আবির প্রকাশন থেকে, মর্জিনা আখতারসন্তানদের যোগ্য সুশিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন, মৃনালিনী চক্রবর্ত্তী হাসিমাখা মুখের মুক্তমনের মানুষটি ভালোবেসেছেন সকলকে, ছন্দা চক্রবর্তী: কপালের একটা বড় টিপ তার ব্যক্তিত্বকে মোহনীয় করে তুলতো, অরুন শীল: সবাইকে আপন করে নেয়ার জাদুকরী ক্ষমতা ছিল, জসীম মেহবুব: একজন আদর্শ শিক্ষক, সাদা মনের মানুষ, কামরুল আনোয়ার চৌধুরী: মহীয়সী মহিলার প্রতিচ্ছবি, বাসুদেব খাস্তগীর: নারী লেখকের অন্যতম পথিকৃৎ, শিল্প সাহিত্যিক, ডা. সোমা চৌধুরী: মায়ের নীতিবোধ অবর্ণনীয়, মিথ্যা বলতেন না, ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন। মুহাম্মদ নোমান লিটন: দিপালীদির মুখাবয়বে মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলাম। আবুল কালাম বেলাল: এক দীপ্ত কৃতীর প্রতিচ্ছবি আমাদের দিপালীদিদি, অমিত বড়ুয়া: অসাম্প্রদায়িক মানবিক মানুষ ছিলেন। মেহেরুন আপা ছিলেন সবচেয়ে কাছের মানুষ। শিবু কান্তি দাশ, তার গল্প পড়ে অনু প্রেরণা পেয়েছি। ইসমাইল জসীম: শৈলীর সাহিত্য আড্ডায় তার অনিবার্য উপস্থিতি ছিলোছিলো আমাদের প্রেরণা, নিজামুল ইসলাম: রম্য রচনা ও ছোট গল্পের জন্য তিনি স্মরণীয়, রুনা তাসমিনা: অসাম্প্রদায়ক চরিত্রের বড়ো উদাহরণ তিনি, করুণা আচার্য: রূপে গুণে যিনি ছিলেন দশ বিদ্যাধারী, মেহেরুন নেসা রশীদ: দিদি ঘর থেকে বের করে নিতেন সাহিত্য জগতে। দুই দশকে সম্পর্ক আমাদের। গৌতম কানুনগো: অতি সহজেই মানুষকে আপন করতে পারতেন, এস এম মোখলেসুর রহমান: রসিকতা ছিল চিরন্তন স্বভাব, মোঃ আসিফ ইকবাল: মানুষ গড়ার কারিগরশিক্ষকতার পাশাপাশি গুণী সাহিত্যিক ছিলেন। রাশেদ রউফ: স্বাবলম্বী, দৃঢ়চেতা, সাংগঠনিক সত্তা, জীবন সংক্রান্ত অনেকগুলো সত্তার মধ্যে তার লেখক সত্তাই প্রধান। চট্টগ্রাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক হিসেবে তার অবদানকে স্বীকার করতে হবে। কবিতার শ্রদ্ধাঞ্জলি কবিতানিতাই সেন / গোফরান উদ্দীন টিটু/ সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার /কানিজ ফাতেমা/ বদরুননেসা সাবু/ নাটু বিকাশ বডুয়া/ সরওয়ার আরমান / ইকবাল হায়দার।

চট্টগ্রাম একাডেমি ও শৈলীর আয়েশা হক শিমু যৌথভাবে প্রকাশ করেছেন দীপালী ভট্টাচার্য স্মারক গ্রন্থ’। এটির প্রধান উপদেষ্টা শিশুসাহিত্যিক সাংবাদিক রাশেদ রউফ। প্রচ্ছদ করেছেন আজিজ রাহমান, আইকো’র কামাল উদ্দিন ছিলেন মুদ্রণ তত্ত্বাবধানে। বইটির প্রকাশকাল চৈত্র ১৪৩২, মার্চ ২০২৬।

হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির একজন প্রতিভূ ব্যক্তি ছিলেন দীপালী ভট্টাচার্য। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি যেভাবে সমাজ সাহিত্য নিয়ে ভেবেছেন কাজ করেছেন তা আজকের সমাজে বিরল। তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি বিরাজ করুক।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅস্থিরতার মধ্যেও মানুষ এগিয়ে যায়
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষা সংশ্লিষ্টরা কেমন আছেন