জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ‘মুছে ফেলা’কে কেন্দ্র করে নগরে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে টাইগারপাস চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রবেশমুখে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল তারা। অবশ্য পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এতে অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ এনে টাইগারপাসে সংস্থাটির প্রবেশমুখে বিক্ষোভ করে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। এ সময় দলটির নেতাকর্মীরা মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ করেন। তারা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তায় ও দেয়ালে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন। এদিকে এনসিপির বিক্ষোভ থেকে মেয়রকে দায়ী করার খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে সেখানে জড়ো হতে থাকে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও মহিলাদলের নেতাকর্মীরা। মেয়রের বিরুদ্ধে যেসব স্লোগান লেখা হয়েছে তা মুছে দিয়ে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এরপর এনসিপি নেতৃবৃন্দ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সবাইকে লালখান বাজার আসার আহ্বান জানায়। এনসিপির নেতাকর্মীরা জড়ো হলে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে বক্তব্য রাখেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগস্টে আমার বাড়িসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহসহ অনেকের বাসায় আগুন দিয়েছে। আমার বাসায় ককটেল মেরেছে। আমার অসুস্থ মাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কাজেই মায়াকান্না আমার সাথে দেখাবেন না। ছাত্রদলের ওয়াসিম জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ হয়। সে আমার অনুসারী। এর থেকে প্রমাণ হয় জুলাই আন্দোলনে মাঠে ছিল ছাত্রদল। একটি গোষ্ঠী জুলাই আন্দোলন হাইজ্যাক করতে চায়। এটা হতে পারে না।
মেয়র বলেন, দেয়ালগুলোতে প্রচুর পোস্টার ছিল। এতে গ্রাফিতি ঢাকা পড়ে। আজ সকালে এনসিপির ছেলেরা আমার সাথে দেখা করে। তাদের বলেছি, দেয়ালগুলোতে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নান্দনিকভাবে নতুন করে গ্রাফিতি করা হবে। কর্পোরেশন থেকে ফান্ড দেব। বেশি লাগলে আমি নিজে অর্থায়ন করব। এতে এনসিপির ছেলেরা খুুশি হয়ে চলে যায়। এছাড়া সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়ে বলেছি কর্পোরেশন থেকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এরপরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এনসিপির বিতর্কিত আরিফ মঈনুদ্দিন কর্মসূচি দিয়েছে। আসলে সে শহরকে অশান্ত করতে চায়।
এ সময় মেয়র ঘোষণা দেন, নান্দনিকভাবে আমার ছাত্রদল–যুবদলের ছেলেরা গ্রাফিতি আঁকবে। আর্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়ে গ্রাফিতি করবে।
এ সময় সালমান নামে এক জুলাইযোদ্ধা বলেন, মেয়রের নামে প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। তার প্রতিবাদ জানাই। মেয়রের সাথে কথা হয়েছে। আসলে রোদ–বৃষ্টিতে অনেক গ্রাফিতি মুছে গেছে। মেয়র বলেছেন, তিনি কর্পোরেশনের ফান্ড দিয়ে গ্রাফিতি আঁকবেন। প্রয়োজনে বক্তিগত তহবিল থেকে দেবেন।
বিক্ষোভরত নগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি বলেন, মেয়রকে তারা অবৈধ বলে অসম্মান করেছে।
এদিকে এনসিপির কর্মসূচিতে ছিলেন নগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন।
আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, মেয়র হওয়ার পর থেকে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জলাবদ্ধতায় মানুষ দুর্ভোগে পড়লেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবাহী গ্রাফিতি মুছে সেখানে ‘বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন’ লেখা হয়েছে। আমরা মেয়রকে বলব, আপনার মেয়াদ শেষ, দয়া করে পদ ছাড়ুন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গত রাত সোয়া ১১টার দিকে বলেন, এনসিপি ও বিএনপির লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।













