সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্য জঙ্গল সলিমপুরের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছেন, ওখানে সরকার পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। কোরবানির সময় নগদ টাকার বড় লেনদেনে প্রয়োজনে পুলিশ এস্কর্ট দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল রোববার চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের আলোচিত ডিসি মাসুদ আলম সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পান। তার সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় প্রথমেই উঠে আসে ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া জঙ্গল সলিমপুর ও রাউজান উপজেলার কথা।
মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে দুটি পুলিশ একাডেমি বা ট্রেনিং সেন্টার করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় যোগদানের আগে থেকেই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে বিভিন্ন কথা শুনেছি। এখন সেখানে দুটো স্কুলে অস্থায়ী দুটো পুলিশ ক্যাম্প আছে। তাদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি হবে, অন্যান্য বাহিনীরও তৎপরতা থাকবে। সেক্ষেত্রে জঙ্গল সলিমপুরের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশি সময় লাগবে না।
গত ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি দল কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে যায়। সেখানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাব সদস্যদের ঘিরে তিনজনকে আটকে ফেলে স্থানীয়রা। তাদের পিটুনিতে নিহত হন র্যাবের উপ–সহকারী পরিচালক নায়েক সুবেদার মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এরপর ৯ মার্চ আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর তিন হাজার ১৮৩ জন সদস্যকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় স্থানীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন, বিজিবির ১২২ জন, র্যাবের ৩৭১ জন সদস্য ছিলেন। তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, ডগ স্কোয়াড, ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয় অভিযানে।
এসপি মাসুদ আলম বলেন, এখানে একটা কথা উঠে আসছে, একটা পক্ষকে বিতাড়িত করে আরেকটি পক্ষকে ঢোকানো। এ রকম কোনো ইনটেনশন আমাদের নেই। এ জায়গাটি নিয়ে কেউ যেন বলতে না পারে সেটা রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটা রাষ্ট্র। কেউ যেন সে এলাকাটা আইসোলেটেড করে রাখতে না পারে।
রাউজান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাউজানের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। অচিরেই দেখতে পাবেন সেখানে আমরা একটি বড় আকারে কাজ করব।
পশুর হাট নিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় এবার ২৪৫টি হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে। এর বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় কিছু হাট হবে। পশুর হাটে বড় টাকার লেনদেন হয়। কারো কাছে যদি বেশি পরিমাণ টাকা থাকে এবং সে টাকা বহনে কেউ যদি নিরাপত্তার শঙ্কাবোধ করেন, সেক্ষেত্রে কেউ আমাদের সহায়তা চাইলে তাকে পুলিশ এস্কর্ট দেওয়া হবে।













