ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের প্রজেক্ট দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১৫ মে, ২০২৬ at ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

কৌতূহল থেকে সৃষ্টির পথে’ প্রতিপাদ্যে নগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজ্ঞান উৎসব২০২৬। এ উৎসবে অংশ নেয়া ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রজেক্ট ও মডেল উপস্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছেন। তাদের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও বাস্তবমুখী উদ্ভাবন প্রজেক্টগুলোর মধ্যে কোনোটি ছিল পলিথিন থেকে গ্যাস ও তেল উৎপাদন, ময়লাকে সম্পদে রূপান্তর করা, নদীর পানি পরিশোধন করে পুনঃব্যবহার কিংবা রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও রিচার্জ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব এবং কার্বন নিয়ন্ত্রণ নিয়েও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী চিন্তাও ফুটে উঠে তাদের প্রজেক্টে।

সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ যেভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিকভাবে উপস্থাপন করেছে। পাশাপাশি কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিশোধন ও বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করার প্রযুক্তিগত ধারণাও তারা তুলে ধরেছে। ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের প্রজেক্টগুলো দেখে মুগ্ধ হন উৎসবে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও দর্শনার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত এ বিজ্ঞান উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা’র সভাপতিত্বে বিজ্ঞান বক্তা ছিলেন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ সাইফুল করিম। মেয়র প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্ম শুধু বইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নেই, তারা বাস্তব সমস্যার সমাধান নিয়েও চিন্তা করছে। এই মানসিকতাই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত বলেন, জীবনে হারজিত থাকবে, কিন্তু নতুন কিছু শেখা ও সৃষ্টির জন্য সবসময় এগিয়ে যেতে হবে। আজ এখানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, আমি মনে করি সবাই বিজয়ী। কারণ তারা নিজেদের মেধা, চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটিয়েছে। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়, বরং নতুন কিছু জানার আগ্রহ ও উদ্ভাবনের মানসিকতা গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসময় শিক্ষকদের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং আয়োজকদের উদ্যোগের কারণেই এমন একটি সৃজনশীল আয়োজন সফল হয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দূষণমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করতে হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, পানি সংকট ও পরিবেশ দূষণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাই ভবিষ্যতের নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর আলম মঞ্জু, অভিভাবক সদস্য রফিক উদ্দিন চৌধুরী, মো. শাহেদ আকবর, সুফিয়া আক্তার সিমি, কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কাশেম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাইরে থেকে দেশে দুর্নীতি করলেও আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব
পরবর্তী নিবন্ধ২৪ ঘণ্টা পৃথিবীর কোথাও না কোথাও লায়ন সদস্যরা কারো না কারো সেবা করে চলেছেন