ম্যাচ জিততে পুরো দলই ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতায় : শান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ১৩ মে, ২০২৬ at ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত বললেন, ‘আমাদের বার্তাই ছিল, আমরা ম্যাচ জেতার জন্য খেলবো। কোচও একই বার্তা দিয়েছেন। সবাই সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম যে এখান থেকে আমরা জিততে পারবো। যদি জিততে নাও পারি, তাহলে যেন প্রতিপক্ষের জন্য ম্যাচ বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়সেই মানসিকতাই ছিল দলের মধ্যে। একবারের জন্যও ড্র কিংবা হার নিয়ে ভাবিনি আমরা। পুরো দলই ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতায়।’ পঞ্চম দিনের পরিকল্পনা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘সকাল থেকেই ব্যাটিং পরিকল্পনা পরিষ্কার ছিলআমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি। সত্যি বলতে আরও ১৫২০ রান করার ইচ্ছা ছিল, তবে কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও জরুরি। আমরা দল হিসেবে ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছি, সামনে এগোচ্ছি, আর এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আমাদের আরও সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস।’ প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টায় ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ। আরও ২০ রানের মতো করার ইচ্ছে থাকলেও ইনিংস ঘোষণা করা হয় মূলত নিজেদের বোলিং আক্রমণের ওপর আস্থা রেখেই, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল আমাদের বোলিং আক্রমণের ওপর আস্থা। ম্যাচে খেলা পাঁচজন বোলারই দারুণ স্কিল দেখিয়েছে। মিরাজ শুরুতেই ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছে, তাসকিন প্রথম উইকেট নিয়ে মোমেন্টাম তৈরি করেছে। এরপর তাইজুল ভাই মাঝের ওভারগুলোতে অসাধারণ বোলিং করেছেন। আর তাসকিন ও রানার স্পেল ছিল সত্যিই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।’ শান্ত আরও বলেন, ‘আমাদের পাঁচজন ভালো বোলার আছে বলেই এই ধরনের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে বোলিং ইউনিটে এখনও উন্নতির জায়গা আছে। যদি ধারাবাহিকতা বাড়াতে পারি, ভবিষ্যতে আরও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস পাবো। রানার বিষয়ে বললে, উইকেটটা একটু ড্রাই ছিল এবং বলের কন্ডিশনও ভালো ছিল। তাই ও যখন জোরে বল করছিল, তখন লাইনলেন্থ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিকীভাবে আরও কার্যকর করা যায়। এখানে মুশফিক ভাইকেও অবশ্যই ক্রেডিট দিতে হবে। উনি রানার সঙ্গে অনেক কথা বলেছেন, কীভাবে আরও ভালো করা যায় সে বিষয়ে গাইড করেছেন। মুশফিক ভাইয়ের মতো অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড় মাঠে থাকলে এই ধরনের দিকনির্দেশনা পাওয়া সত্যিই বড় সুবিধা।’ চাবিরতির পর নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে শান্ত আরও বলেন, ‘ওই সময় ম্যাচটা একদম ফিফটিফিফটি অবস্থায় ছিল। ওদেরও জয়ের একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আমি একটু ইন অ্যান্ড আউট ফিল্ড সেট করেছি এবং পরিকল্পনা ছিল কীভাবে রান না দিয়ে বোলিং করা যায়। কারণ এই উইকেটে দীর্ঘ সময় ডিফেন্ড করাটাও সহজ ছিল না। আমরা ভেবেছিলাম, কয়েকটা ভালো বোলিং পার্টনারশিপ তৈরি করতে পারলে উইকেট আসবে এবং নতুন ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা কঠিন হবে। তবে মাথার ভেতরে সবসময় ছিল যেন তারা ম্যাচটা আমাদের কাছ থেকে বের করে নিতে না পারে।’ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে এবার ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করলো বাংলাদেশ। শান্ত অবশ্য এতো দূরে ভাবতে চান না, ‘এখনই খুব বেশি দূরের কথা ভাবতে চাই না। শুরুটা ভালো হয়েছে, তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরের টেস্ট ম্যাচ। গতবার আমরা সাত নম্বরে শেষ করেছিলাম, এবার যদি চার বা পাঁচের মধ্যে শেষ করতে পারি, সেটাই হবে বড় অর্জন। এভাবেই ধারাবাহিকভাবে এগোতে পারলে সবাই বুঝবে, আমরা ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলি। তবে এখনও আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে।’ এদিকে ব্যাট হাতে ব্যাটিং ধারাবাহিকতাকে নিজের সেরা সময় বলতে নারাজ শান্ত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ম্যাচেই আরও ভালো করা উচিত ছিল তার। ‘আমার ব্যাটিং নিয়ে বলব যে, এই জায়গায় যদি অন্য কোনো বড় ব্যাটার থাকত, ১০১ রানের ইনিংসটা হয়তো ২০০ হতো। এটা খুবই সত্য কথা। বিশ্ব ক্রিকেটে যদি দেখেন, এরকমই করে যারা শীর্ষ ব্যাটসম্যান। আমার মনে হয় না যে, আমি সেরা ছন্দে আছি। আমি মনে করি, আমার আরও ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল প্রথম ইনিংসে। আমার মনে হয় প্রথম ইনিংসটা বড় হতে পারত। যেভাবে ব্যাটিং করছিলাম, উইকেটটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে, প্রথম দুইতিন ঘন্টায় অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপরও আমার মনে হয় যে, ইনিংসটা আরেকটু বড় হতে পারত।’ নিজের দ্বিতীয় ইনিংসের মূল্যায়নেও প্রথমটির কথাই আবার বললেন শান্ত। ‘দ্বিতীয় ইনিংস নিয়ে বলব, যেভাবে ব্যাটিং করতে চেয়েছি করতে পেরেছি। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের উইকেটটা কঠিন থাকে। পঞ্চম দিনে আজকে ব্যাটিং করলাম। সামগ্রিকভাবে ব্যাটিং ভালো হয়েছে। তবে আমি বলব যে, প্রথম ইনিংস আরেকটু বড় হতে পারত।’ এদিকে অধিনায়ক শান্ত বলেন, ‘নাহিদের কথা বলার আগে আমি একটু তাসকিনের কথা বলবো। আসলে তাসকিন শুরুটা দিয়েছিল যেভাবে, চার বিরতির পরে এসে দারুণ বোলিং করেছে। ওই চারপাঁচ ওভারের স্পেলটা আসলে মোমেন্টাম এনে দিয়েছে।’ নাহিদ রানাকে নিয়ে শান্ত বলেন,‘রানাকে আমরা জানি যে, ও কত স্পেশাল এবং কত জোরে বল করে। ওর স্কিলেও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। নিজেও অনেক উপভোগ করছে। প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল ওর সামনে, এটা দেখতেও ভালো লাগে। আমি খুবই খুশি, ও যেভাবে দলের জন্য অবদান রাখছে নিয়মিত। চাওয়া থাকবে, এভাবেই দলের জন্য অবদান রেখে যাবে ও।’ আফ্রিদিকে বাউন্সারে জবাব দেওয়া নিয়েও খোঁচা দিতে ভুল করেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতেও হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না। কারণ আমাদের শখ নেই অত জোরে বাউন্সার খেলা। অবশ্যই ভালো লাগে।

এখন আমরা ওই কি বলব বাংলা ভাষায় যদি বলি যে, জবাবটা দিতে পারি। এটা এটা এটা একটা ভালো দিক। আমাদেরও এরকম বোলিং শক্তি এখন আছে। এই জিনিসগুলো ভালো দল গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নাহিদ রানার অনন্য কীর্তি
পরবর্তী নিবন্ধজলবায়ু সচেতনতা প্রামাণ্যচিত্রে পূর্ণিমা