‘মসজিদের খাটিয়া আনব, ওখানে শোয়াব’

চকরিয়ার ওসি-ইউএনওকে হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতার

বিডিনিউজ | বুধবার , ১৩ মে, ২০২৬ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়া থানার ওসি, ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে। গত রোববার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যের ভিডিও ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার রাতে উপজেলার আজিজনগর চেয়ারম্যান লেক এলাকায় দলীয় একটি অনুষ্ঠানে এনামুল হক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। চকরিয়া উপজেলা বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজি, পৌরসভা বিএনপির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাসেম।

ভিডিওতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে বলতে শোনা যায়, চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি। তিনি বলেন, ও ওসি, তুই যদি আর হতা ন হনুস, রাতিয়া গাট্টি গোল গরা পরিবো (ও ওসি, তুই যদি আমার কথা না শুনিস কাপড়চোপড় বেঁধে রাখতে হবে)। একইভাবে ইউএনও অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে রাতে গাট্টি (কাপড়চোপড়) বেঁধে রাখার চেষ্টা করো।

এনামুল বলেন, আরও বড় বড় কর্মকর্তা যারা আছে, অফিসারপিয়ন (কর্মকর্তা) আছে, আলটিমেটাম দেবেন, এই কাজটা করে দিবি। ১৫ দিন সময় দেবেন। এর ভেতর যদি না করিস, মসজিদ থেকে খাটিয়া আনবো, তোকে ওখানে শুয়াবো। তারপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেব। তোর আর থাকতে হবে না। এই হচ্ছে আমাদের করণীয়। এ সময় অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার জন্য সবাইকে নিষেধ করেন বিএনপি নেতা। তবে বৈধভাবে সবাইকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

এ বক্তব্যের বিষয়ে মঙ্গলবার চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, আমি বলেছি, হ্যাঁ এই কথাগুলো আমি বলেছি, কিন্তু আপনারা যে অর্থে নিয়েছেন, ওই অর্থে বলি নাই। এটা আমি এই অর্থে বলেছি যে, আমাদের যদি বৈধ কোনো কথা না শোনা হয়, তাহলে এটা প্রযোজ্য হবে।

তার দাবি, বক্তব্যটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নয়, বরং একটি পিকনিকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে ভিন্ন অর্থে প্রচার করা হচ্ছে। এখানে তো কোনো সাংবাদিক যায়নি।

এনামুল হক বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে এই বক্তৃতা দিই নাই। একটা পিকনিকে আমরা এই কথাগুলো বলেছি। তিনি বলেন, বিষয়টি ছিল বৈধতাঅবৈধতার প্রশ্নে এবং আমাদের ছেলেদের যদি অবৈধভাবে কেউ হয়রানি করে, তাহলে সে হয়তো চকরিয়াতে চাকরি করবে নাএই প্রেক্ষাপটে আমি মন্তব্য করেছিলাম।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, আমি এ কথা তাকে (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে) বলেছি। কে বা কারা এটাকে নিয়ে মিটিং করে এই বক্তৃতা করেছেএটাই। ঘটনাটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিতজানালে এনামুল হক বলেন, রাইট, রাইট। আমাদের এলাকা হোম মিনিস্টারের এলাকা। জনগণই তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই কোনো বৈধ কাজ যদি তারা করে না দেন, তাহলে ইউএনওওসির এমন পরিণতির কথা বলেছি।

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বিষয়টি নজরে আসেনি। এটা ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত। উনিই ভালো বলতে পারবেন, কেন তিনি বলেছেন। চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরের ৯টি ওয়ার্ড হাম-রুবেলার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত
পরবর্তী নিবন্ধভবন মালিকের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুই প্রতারক গ্রেপ্তার