বায়েজিদে রাউজানের যুবককে গুলি করে হত্যা

এই সময় চোখে গুলিবিদ্ধ হয় পথচারী এক মেয়ে শিশু, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৮ মে, ২০২৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন হাসান রাজু (৩২) নামে রাউজানের এক যুবক। এসময় মোছাম্মৎ রেশমি আক্তার (১১) নামে পথচারী একটি মেয়ে শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নিহত যুবক হাসান প্রকাশ রাজুর বাড়ি রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে। তার বাবার নাম আবুল কালাম। জানা যায়, হাসান রাজু রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসেরপাড়া এলাকার আলোচিত নাছির হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রৌফাবাদের শহীদ মিনার এলাকায় রাজু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমি বায়েজিদ রৌফাবাদ কলোনী শহিদ মিনার গলির রিয়াজ আহমেদের মেয়ে। ঘটনার সময় সে বাসা থেকে বের হয়ে দোকানে যাচ্ছিল।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে বায়েজিদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজু রৌফাবাদ তার বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসার সাথে সাথে তাকে লক্ষ্য করে অজ্ঞাত যুবকরা গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার পর হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত শহিদ মিয়ার কলোনির প্রবেশমুখে এসে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় সেখানে থাকা একটি মেয়ে শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে তারা শব্দটিকে আতশবাজি কিংবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আওয়াজ মনে করেছিলেন। পরে বাইরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রাজু ও গুলিবিদ্ধ শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে। দুর্বৃত্তরা রাজুকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে বলে জানান এলাকাবাসী।

ভিকটিম শিশুর বড় ভাই আহমেদ বলেন, বায়েজিদ রৌফাবাদ কলোনির শহিদ মিনার গলিতে তার বোন দোকানে যাওয়ার সময় কিছু সন্ত্রাসী হঠাৎ গোলাগুলি শুরু করে। সেখান থেকে একটি গুলি বোনের চোখে লেগে গুরুতর আহত হয়।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, রেশমি আক্তার নামে আহত এক শিশুকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রেরণ করেন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্ক্ষাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ এপ্রিল রোববার রাতে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শমসেরপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন নাছির। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, নাছিরকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি গুলি করা হয়। নাছিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা আছে। আলোচিত এ নাছির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গতকাল রাতে রৌফাবাদে নিহত হাসান রাজু জড়িত বলে জানিয়েছেন নিহত নাছিরের পরিবার।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজানে বেড়ে যায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম। গত দেড় বছরে রাউজানে অন্তত ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ১৬টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। সর্বশেষ রাজু হত্যাকাণ্ডও এর ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপশ্চিমবঙ্গের ফলাফলের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়ে গেছে
পরবর্তী নিবন্ধএকটি উপশহর ও দুটি আবাসিক এলাকা গড়তে চায় সিডিএ