দেশের গণমাধ্যম খাত এখনও অ্যানালগ কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে দাবি করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। ডিসিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তারাও যেন প্রস্তুত থাকেন। চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষদিন গতকাল বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক অধিবেশন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।
ডিসিদের উদ্দেশে কি নির্দেশনা দিয়েছেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা একটা রূপান্তরিত গণমাধ্যম ইকোসিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। এরকম একটা পর্বকে এর আগে খুব ভালোভাবে চিহ্নিত না করার ফলে গৎ বাঁধা সব ধরনের কথা চিন্তা এবং কাজ ছিল। কিন্তু আমরা গৎ বাঁধা চিন্তা এবং কথা বলতে চাই না বলেই সমস্যাটাকে ভালোভাবে বুঝতে চাই। সেই বোঝাবুঝির পর্বটা এখনো শেষ করা যায়নি এবং তাতেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে দরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তবে যেসব কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন আমাদের মিসইনফরমেশন (অপতথ্য) এবং ডিসইনফরমেশনকে (মিথ্য তথ্য) মোকাবেলা করা, যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে একটা নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব। আমরা ডিসি সাহেবদেরকে পরামর্শ দিয়েছি, তারাও যেন প্রস্তুত থাকেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যখন আমরা এই সক্ষমতা নিয়ে হাজির হব, তখন তারা সহযোগিতা এবং তাদের কর্মসূচিগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের জন্য ওয়েজ বোর্ড গঠন নিয়ে এক প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই নোয়াবের (সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এ ব্যাপারে একটা নীতিগত আলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি তৈরি করতে পেরেছি। এরপর টেলিভিশন মালিক সমিতির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে। ডিসিদের বিশেষ প্রস্তাব ছিল, গুজব ও মিথ্য তথ্য প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং করতে একটা স্থাপনা করার।এ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে? জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, একটা প্রকল্প আমরা ইতোমধ্যে নিয়েছি। সেটার আওতায় এই কাজগুলো করে যাব। ওটার সঙ্গে জেলা পর্যায়ে যে তথ্যের অবকাঠামো আছে, সেটাকে একীভূত করে ফেলব আমরা।
মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের ডিসিদের কাছে তথ্য পেতে অনেক রকম সমস্যায় পড়তে হয়। এই জায়গায় কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা? জবাবে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, জেলা পর্যায়ে যারা সাংবাদিক ভাই আছেন, তাদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য তাদের (ডিসি) নির্দেশ এবং অনুরোধ করেছি। যেন প্রত্যেকটা সভায় তাদের (সাংবাদিক) যুক্ত করে। তাহলে তথ্যগুলো সেই মিটিংগুলো থেকে পাওয়া যাবে এবং আমার ধারণা, জেলা প্রশাসকরা সেটাই করবেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।














