এপ্রিলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের হেড কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। কোচের সন্ধানে থাকা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে নতুন করে আবেদন করেছিলেন চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ডাগআউটে থাকা এই স্প্যানিশ কোচ। এবার তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দিলেন বিদায়ের বার্তা। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ দলের হাল ধরেন কাবরেরা। ওই বছর মার্চে মালদ্বীপের বিপক্ষের প্রীতি ম্যাচে ২–০ গোলের হার দিয়ে ডাগআউটে অভিষেক হয় তার। শেষটাও হয়েছে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গত মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১–০ ব্যবধানের হার দিয়ে। এর মাঝে কিছু প্রাপ্তির গল্পও আছে।
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ভারতের বিপক্ষে কাবরেরার অধীনে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলে সেমি–ফাইনাল; ২০০৯ সালের পর যা ছিল প্রথম। সাফল্য–ব্যর্থতা মিলিয়ে আলোচনা–সমালোচনার মধ্যেই ছিলেন কাবরেরা। তবে বাফুফের কাছে নতুন করে আবেদন করায় তার ডাগআউটে টিকে যাওয়ার কিঞ্চিৎ সম্ভাবনাও ছিল। ৪১ বছর বয়সী এই কোচ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া বার্তায় সে সম্ভাবনার ইতি টেনে দিলেন নিজেই। বার্তায় তার তৃপ্তি–অতৃপ্তি দুটোই ফুটে উঠেছে। ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আমার যাত্রা শেষ হচ্ছে। চার বছর চার মাস পর যা বাংলাদেশ জাতীয় দলের ইতিহাসে একজন প্রধান কোচের দীর্ঘতম মেয়াদ, আমি এমন কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, যার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল সার্থক। মাঠের ভেতরে ও বাইরে, আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কয়েকশ দর্শকের সামনে খেলা থেকে শুরু করে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে অবিস্মরণীয় রাত কাটানো, আমরা এমন সব মুহূর্ত তৈরি করেছি, যা বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল থেকে যাবে।’ দলের মধ্যে লড়াকু মানসিকতা আনা, সাফের সেমি–ফাইনালে খেলা, ভারতকে প্রথমবারের মতো হারানোর তুষ্টি কথার বিশেষভাবেই বার্তায় উল্লেখ করেছেন কাবরেরা।
‘একসাথে, আমরা একটি শক্তিশালী দল এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা গড়ে তুলেছি, যা আমাদেরকে এই উপমহাদেশের শক্তিশালী জাতীয় দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছি, যেমন–১৪ বছর পর সাফ সেমি–ফাইনালে পৌঁছানো, ২২ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো আনুষ্ঠানিক ম্যাচে ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পৌঁছানো। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা যে পথ তৈরি করে দিয়েছি, তার জন্য আমি বিশেষভাবে গর্বিত। এই সময়ে, ২১ জন অনূর্ধ্ব–২৩ খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে, যেটি এশিয়ার অন্যতম তরুণ একটি জাতীয় দল প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।’ বার্তার শেষাংশে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সমর্থক সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কাবরেরা।














