জন্মের প্রথম চিৎকারটা ছিল বেঁচে থাকার জানান দেওয়া, কিন্তু জানতাম না সেই কান্নাই হবে জীবনের নিত্যসঙ্গী। শৈশবের ছোট ছোট আবদার নিয়ে কেঁদেছি, ভেবেছিলাম বড় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বড় হওয়ার পর বুঝলাম, ছোটবেলার সেই কান্নাগুলো আসলে অনেক সহজ ছিল। এখনকার কান্নাগুলো চোখে দেখা যায় না, এগুলো হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
মাঝে মাঝে মাঝরাতে একা জেগে ভাবি আমি আসলে নিজের জীবনে কী করলাম? নিজের হাতেই কি– নিজের ধ্বংসের বীজ বুনেছি। নাকি ললাটের লিখনটাই এমন ছিল? মানুষের দেওয়া অপবাদ আর অবহেলায় যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন ভাগ্য আর নিজের কর্মের বিচার করার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। মানুষ বলে ‘ম্যাচিউরিটি’ সব সহ্য করতে শেখায়, কিন্তু কেউ বলে না যে,এই সহ্য করার ক্ষমতা আসলে ভেতরে ভেতরে একটা মানুষকে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে দেয়।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় তখন, যখন চারপাশ ভর্তি মানুষের ভিড়েও নিজেকে খুব বেশি একা মনে হয়। কেন কেউ হাত বাড়িয়ে বলে না ‘ভয় নেই, আমি তো আছি’? কেন সবাই শুধু দূরে সরে যেতে জানে? কেন শেষ বিকেলের ছায়ার মতো কাছের মানুষগুলোও দীর্ঘ হতে হতে একসময় অন্ধকারে মিলিয়ে যায়?
আয়নার সামনে দাঁড়ালে আজ নিজেকেই সবচেয়ে বেশি অচেনা লাগে। এই অবহেলা হয়তো আমার প্রাপ্য ছিল না, কিন্তু এটাই এখন আমার নিয়তি। নিজের অজান্তেই হাতটা মুঠো করে খুঁজি কাউকে, কিন্তু হাতের রেখায় শুধু শূন্যতা আর দীর্ঘশ্বাসের দাগ। হয়তো এভাবেই চলতে হয়, এক বুক হাহাকার আর দু’ফোটা নোনা জল সম্বল করে, যেখানে কেউ আসার নেই, কেউ পাশে থাকার নেই শুধু আছে এক অনন্ত নীরবতা।














