কাস্টমসে দুই বছরেও চালু হয়নি বিশেষ ইলেকট্রনিক গেট

বেড়েছে বহিরাগতদের আনাগোনা । আগামী মাস থেকে কাস্টমসের কার্যক্রম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে, সেখানে কার্ড চালু হবে : কর্তৃপক্ষ

জাহেদুল কবির | বুধবার , ৬ মে, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ ইলেকট্রনিক গেট স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই বছরেও সেটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ‘প্রক্সিমিটি কার্ড সিস্টেম গেট’ নামের বিশেষ এই ইলেকট্রনিক গেটের জন্য প্রক্সিমিটি কার্ড ইস্যুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট, কাস্টমস সরকারসহ সকল সেবাগ্রহীতার প্রক্সিমিটি কার্ড গ্রহণের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের প্রবেশমুখগুলোতে সেই সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতাদের সহায়তায় ছয়টি মেশিনও স্থাপন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মেশিনগুলোর কার্ড সিস্টেম চালু না হওয়ায় সেটি আর আলোর মুখ দেখেনি। এতে চট্টগ্রাম কাস্টমসে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, কাস্টমসের প্রবেশমুখে কাস্টমসের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরীরা পরিচয়পত্র দেখে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আগামী মাস থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কার্যক্রম আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে যাচ্ছে। সেখানে এই কার্ড চালু করা হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাজস্ব সংক্রান্ত শত শত নথি ছাড়াও কাস্টমসের সিস্টেম সফটওয়্যারে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ চালানের ডাটা রেকর্ড রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থায় মাঝে মাঝে দেখা যায়, বহিরাগত লোকজন প্রবেশ করে অহেতুক গল্পগুজব করে। এতে কর্মপরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি রিগ্যান আজাদীকে বলেন, কাস্টমসের প্রবেশপথে ইলেকট্রনিক গেট বসানোর জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলে আসছিলাম। এতে কাস্টমসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ হবে। গত দুই বছরে এই কার্ড চালু করা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম কাস্টমসে এখনো এক শ্রেণীর লোক বিভিন্ন শুল্কায়ন শাখায় রাজস্ব সংক্রান্ত নথি আনানেওয়ার কাজ করে। এদেরকে কাস্টম হাউসে সবাই ‘ফালতু’ নামে চেনে। এসব ফালতুর বিরুদ্ধে কতিপয় কাস্টমস কমকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে ‘স্পিড মানির’ নামে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এখন প্রঙিমিটি কার্ড সিস্টেম গেট চালু করা গেলে এসব ফালতুর দৌরাত্ম্যও ঠেকানো যাবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসে অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রঙিমিটি কার্ড সিস্টেম গেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নানা কারণে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রঙিমিটি কার্ড সিস্টেম গেট চালু না হলেও কাস্টমসের নিজস্ব লোকজন সেবাগ্রহীতাসহ সবার পরিচয়পত্র দেখে প্রবেশ করতে দেন। আগামী মাস থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কার্যক্রম আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ফ্লোরে চলে যাচ্ছে। সেখানে এই সিস্টেম চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমসের তৎকালীন উপকমিশনার নুর নাহার লিলির কক্ষের তালা ভেঙে নথি চুরির চেষ্টার ঘটনায় মেহেদী হাসান রায়হান ও খায়েজ আহমদ নামে দুই ব্যক্তিকে আটকের পর বন্দর থানায় সোপর্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫টি মোবাইল ফোন, ২টি চাবির রিং, একটি তালা, একটি ল্যাপটপ, ইউএসবি ক্যাবলের সাথে চিপস, ১টি রাউটার এবং মাস্টার চাবি পাওয়া যায়। পরে চট্টগ্রাম কাস্টমসের তৎকালীন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মহসিন বন্দর থানায় মামলা করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি, বাসচাপায় মৃত্যু