১৩ বছর আগে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল রোববার এ তথ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় এরই মধ্যে আমরা ৩২ জন নিহত ব্যক্তির তালিকা পেয়েছি। তারা শাপলা চত্বরেই নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামেও হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
সে সময় সরকারের ঊর্ধ্বতনদের বা পুলিশের যারা জড়িত রয়েছেন, কিংবা অর্থের জোগান দিয়েছেন তাদেরও এ মামলায় আসামি করা হবে বলে তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘শাপলা চত্বরের এ মামলায় ৯০ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়েছে। বাকি কাজও শিগগির সম্পন্ন করতে পারব।’ এরপর তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যাচাই–বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।
শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সেদিন সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। পরে সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।
নারী উন্নয়ন নীতি ও শিক্ষা নীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে গড়ে উঠেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। তবে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ আন্দোলনের পাল্টায় রাজপথে নেমে সংগঠনটি বেশি পরিচিতি পায়।
শাপলা চত্বরের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন বলে সে সময় এক প্রতিবেদনে দাবি করে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। যদিও পুলিশের দাবি, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি, আর দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যাটি ১১।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে।
এ মামলায় আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ–মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক–দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। গত ৫ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন।
পরে আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল।














