মায়ের মৃত্যুর পর প্রথম যেদিন স্বপ্নে দেখলাম মা বলছেন, সবাই কি আর চিরদিন বেঁচে থাকেরে বোকা? কেন এমন করিস? সেদিন থেকে মাকে হারানোর দুঃখ আমার অন্য রকম ভাবালুতায় মোড় নিয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর থেকে নিজকে বড় একা লাগত আমার, অরক্ষিত মনে হতো নিজকে। ভাবতাম পৃথিবীতে আমি বড় একা, নিরাপদ আশ্রয় বলতে আমার আর কিছুই নেই। সে রাতে মাকে স্বপ্ন দেখার পর থেকে মনে হতে লাগল মা আমার কাছ থেকে চির বিদায় নিয়েছে একথা সত্যি, তাই বলে পৃথিবীতে আমি একেবারে একা নই, অরক্ষিত হয়ে যাইনি। মা আছেন আমার চারপাশে অদৃশ্য শক্তি হয়ে। শুধু সশরীরে মাকে দেখতে পাচ্ছি না আমি। আমার মনে হয় এটাও অতি সাময়িক একটি ঘটনা। মাকে আমি একদিন না একদিন খুব কাছে থেকে দেখতে পাবো। আজকের এই দিনে এসে মা তোমার প্রতিটা কথা সত্যি হচ্ছে। মা বলতো আমি না থাকলে বুঝবি মণি। জ্বি মা সত্যিই বুঝতেছি। হারে হারে বুঝতেছি বাল্যকাল একমাত্র থেকে শুধু মাত্র মা আমাকে আদর করে মণি ডাকতো। এই নামে আর কেউ আমাকে ডাকতো না। মা ছাড়া হুশ জ্ঞান হবার থেকে পর মৃত্যু পর্যন্ত। আমি অসুস্থ হলে মায়ের কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করতাম। কেননা মায়ের কান্না বন্ধ হতো না। সবাইকে মানা করতাম না বলার জন্য। কেউ বলতো না। তারপরেও কেন জানি জেনে যেতো। মায়ের খবুই কম বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ে একদেড় বছরে মধ্যে আমার জন্ম হয়। বাল্যকাল থেকেই আমি নানীর কাছে বড়ই হই। এমনকি মায়ের বুকের দুধ এই অভাগা কপালে জুটেনি। তার কারণ মা ভীষণ অসুস্থ ছিলো। আমি যে আমি মায়ের দুগ্ধ খেতে পারি নাই মায়ের সারাজীবন আফসোস ছিলো। আমার নানীর মুখে বড় হয়ে শুনেছি। মাকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি। সে সাহস আমার ছিলো না। পরিবারে প্রায় সবাই জানে। আমি না জানার ভান করি। আমার জন্ম হওয়া থেকে স্কুলে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত মোট আমার বাল্যকাল নানীর সাথে থাকা চুল কাটা, খাওয়া ঘুমানো শপিং এমনকি খৎনা পর্যন্ত নানী করিয়েছেন। মাকে তখন বাবা, নানী, নানা ও অন্যরা নাম ধরে ডাকতেন আমি ওদের মতো নাম ধরে ডাকতাম। শুধু নানীকে মা ডাকতাম। অবশ্যই সেই অভ্যাস বদল হয়ে গেছে বাল্যকালেই। মায়ের কথা লিখতে গেলে আরো অনেক কথা এসে যায়। হঠাৎ কাল রাত মা আমাকে ডেকে বললো মণি তুই এত অসুস্থ আমাকে একবারে বললি না কেন আমি কি তোর সৎ মা।
আমি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়লাম, চোখের পাতা মুহূর্তে ভিজে গেলো, আমার আশেপাশে এত আত্মীয় স্বজন আজ আটদিন অত অসুস্থ কেউ জানলো না। মা জানলো কীভাবে আমি দ্রুত বললাম শুক্রবার জুম্মা নামাজের সময় বলেছি। তোমার মৃত্যুর দুই বছর হয়নি কিন্তু তোমার প্রতিটা কথা এত দ্রুত বাস্তব হচ্ছে ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। মা বলে গেছেন, আমি প্রায় আসবো মণির সঙ্গে দেখা করে যাবো মৃত্যুর আগে আমার ভাইবোনকে বলে গেছেন। তোমার মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাকে মণি বলে ডাকতে, মা তোমার তুমি মণিকে প্রতিদিন আকাশের তারা হয়ে দেখা দিও।













