ঐতিহাসিক মে দিবস আজ পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক দিবসে। অথচ এই মে দিবস ছিল একদিন মে–বাণীর রূপকথার অন্দর মহলে ঘুমিয়ে। ইউরোপে দুর্ভেদ্য শীতের তুষারপাত সবে গলতে শুরু করেছে। গাছে গাছে নতুন পাতা, ফুলের বাহার, পাখির গান—- তখনই মে রাণীর ঘুম ভাঙতো যেন। মে রানীকে ঘিরে গায়কের গান—কবিদের কবিতা—উৎসবের আমেজ চারপাশে। তখন রোপন করা হতো মে বৃক্ষ। অথচ একটা সময় আসলো —দিন বদলালো। সমাজে পরিবর্তন আসলো। বদলে গেলো সমাজব্যবস্থাও। পাল্টে গেলো শব্দের অর্থ। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে এসে বদলে গেলো মে দিবসের অর্থ। মে দিবস পরিণত হলো পরিশ্রমের সময়ের গুনতি ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন। পরিণত হলো শ্রমিকদের সংহতি দিবস, পূঁজিবাদী শোষণ মুক্তির সংগ্রামী শপথ। আন্দোলনের পথ কখনোই মসৃণ হয় না। থাকে নানা ঘাত–প্রতিঘাত, জুলুম ও অত্যাচারে, মিছিলে ধর্মঘটে, সংগ্রামীঐক্যে রক্তে লাঞ্ছিত। তারা কাজ করতো প্রায় ২৪ঘন্টা, ১৮/২০ ঘন্টা কাজের সময়ের কোন মাত্রা ছিল না। আলেকজান্ডার ট্রাকটেন বুর্গ মে দিবসের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন –‘মে দিবসের জন্মকাহিনী অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে আছে কাজের ঘন্টা কমাবার আন্দোলনের সাথে।’ এই মে দিবস শ্রমিক শ্রেণির চিন্তা চেতনায় এনেছে বৈপ্লবিক তাৎপর্য। লেনিন মে দিবসকে ব্যবহার করেছিলেন শ্রমিক শ্রেণির বৈপ্লবিক অভ্যূত্থানের বলিষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে। মে দিবস আজ দুনিয়াজুড়ে মেহনতি মানুষের সংগ্রামের সফলতার দিন, সৌভ্রতৃত্বের দিন।












