মহামতি গৌতম বুদ্ধের ত্রি–স্মৃতিবিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ। শান্তি, অহিংসা ও মৈত্রীর আহ্বানে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে দেশের বৌদ্ধ সমপ্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধ পূজা, প্রদীপ প্রজ্বলন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাত ফেরি, সমবেত প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও বুদ্ধ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মানব জাতির সর্বাঙ্গীণ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহামতি বুদ্ধ আজীবন একটি সৌহার্দ্যময় ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়েছেন। অহিংস পরম ধর্ম–বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও সংঘাতময় বিশ্বে যুদ্ধ–বিগ্রহ, ধর্ম–বর্ণ–জাতিগত হানাহানি রোধসহ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ আজীবন মানুষের কল্যাণে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করেছেন। গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা শান্তি, সহনশীলতা, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চিরন্তন বাণী বহন করে। বর্তমান বিশ্বে যখন সংঘাত, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা নানা সংকট সৃষ্টি করছে, তখন গৌতম বুদ্ধের সহমর্মিতা, মানবিকতা ও শান্তির বাণী আমাদের জন্য গভীর প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’। ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি আর মহাপরিনির্বাণ–এই স্মৃতি বিজড়িত এই দিনটিকে বুদ্ধ পূর্ণিমা হিসাবে পালন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকগুলো বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে, এবং বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সমপ্রচার করবে। সাধারণত দেশজুড়ে বিহারগুলোর চূড়ায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন এবং ভোরবেলায় ত্রিপিটকের পবিত্র শ্লোক পাঠের মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়।
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বিশেষ অনুষ্ঠান : বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আজ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জগতপূজ্য তথাগত’ প্রচারিত হবে। শ্যামল চৌধুরীর গ্রন্থনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ২৯তম সংঘনায়ক অধ্যাপক ড. বনশ্রী মহাথেরো। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ঈমাম হোসাইন এবং প্রযোজনা করেছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
বুদ্ধের জীবনীভিত্তিক নাটক ‘চন্দ্রপ্রভা’ : শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে চ্যানেল এস–এ আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টায় প্রচারিত হবে বুদ্ধের জীবনীভিত্তিক নাটক ‘চন্দ্রপ্রভা’। নির্মাতা শ্যামল চৌধুরীর গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে এই বিশেষ নাটকটি। ‘কাছেদূরে এন্টারটেইনমেন্ট’ প্রযোজিত এ নাটকটিতে তথাগত বুদ্ধের জীবনের কিছু অংশ ও বর্তমান পারিবারিক–সামাজিক প্রেক্ষাপটে বুদ্ধের দর্শন কতোটা প্রাসঙ্গিক তা তুলে ধরা হয়েছে। নাটকটির প্রযোজক সোহেল বড়ুয়া ও রুবেল বড়ুয়া, সহ–প্রযোজক আকাশ বড়ুয়া।
উল্লেখ্য, ‘চন্দ্রপ্রভা’ বাংলাদেশে এই প্রথম বুদ্ধের জীবনীভিত্তিক নাটক নির্মাণ। এ সম্পর্কে নির্মাতা শ্যামল চৌধুরী বলেন, গত এক বছর আগে এ নাটকটি অত্যন্ত যত্নসহকারে তৈরি করা হয়েছে, অনেক গবেষণার ফসল এটি। আশা করি নাটকটি দর্শকপ্রিয়তা পাবে।
‘চন্দ্রপ্রভা’ সম্পূর্ণ চট্টগ্রামে চিত্রায়িত হয় এবং রঙ বিন্যাস, সম্পাদনা ও আবহ সঙ্গীতের কাজ করা হয়েছে ঢাকায়। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিকিরণ বড়ুয়া, বনকুসুম বড়ুয়া, হেমা বড়ুয়া, দেবাশীষ বড়ুয়া সাজু, স্বস্তিকা দাশ প্রান্তি, রঞ্জন বড়ুয়া, সীমান্ত বড়ুয়া, বীণা দাশগুপ্তা, অধীতি বড়ুয়া, চন্দ্রিমা বড়ুয়া, প্রিয়তোষ বড়ুয়া, সুদীপ বড়ুয়া, শংকর বড়ুয়া, সৌরভ বড়ুয়া, জুলি বড়ুয়া, তন্ময় বড়ুয়া, সাহস বড়ুয়া, শতরূপা বড়ুয়া, স্বাগতা বড়ুয়া, প্রান্ত বড়ুয়াসহ আরো অনেকে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।














