একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সরানো হল শিক্ষক সুদীপকে

মিমোর আত্মহত্যা

| বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস এবং পরীক্ষা কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত রোববার বিভাগের একাডেমিক কমিটির এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিভাগের ২০২৪ সনের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। এ ঘটনার পর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। মামলা দায়ের হওয়ার দরুন তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। একাডেমিক কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইন প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম, ক্লাস এবং সকল পরীক্ষা কমিটি হতে ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে অব্যাহতি দেয়া হল।

মুনিরা মাহজাবিন মিমো ছিলেন ২০১৯২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন মিমো। রোববারে নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’ মিমোর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সেদিনই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এরপর সুদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন। আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রোববার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সুদীপকে আটক করা হয়। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা দরকার। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তার রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধএখনও অপেক্ষা টেকসই সুরক্ষার
পরবর্তী নিবন্ধনিজামী-সাঈদী সংসদে কখনো স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলেননি : শাহজাহান চৌধুরী