জামিন নাকচ, ঢাবি শিক্ষক সুদীপ কারাগারে

মিমোর ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’

| মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন গতকাল সোমবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছিলেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই কামাল হোসেন এ তথ্য জানিয়েছিলেন। খবর বিডিনিউজের। মুনিরা মাহজাবিন মিমো ছিলেন ২০১৯২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন মিমো। গত রোববার নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখাছিল, সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া

দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরে সুদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন।

আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডার এলাকায় অভিযান পচিালনা করে রোববার বিকাল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সুদীপকে আটক করা হয়। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার ‘তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে’।

ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা দরকার জানিয়ে আবেদনে বলা হয়, তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তার রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে। সুদীপের পক্ষে তার আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, মামলাটা আত্মহত্যায় প্ররোচনার। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাত ১টার দিকে ভিকটিমের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। আসামি একজন ভদ্রলোক, ভালো একজন সহযোগী অধ্যাপক। উনাকে কেন যে মামলায় জড়াল। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে মামলাটি। জামিন দিলে অপব্যবহার করবেন না।

পরে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর তরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। তবে শুনানিকালে এজলাসে তোলা হয়নি সুদীপকে। তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন : মির্জা ফখরুল
পরবর্তী নিবন্ধফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ভুল সংশোধন করে বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে : অর্থমন্ত্রী