প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম–১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর এমপি জহিরুল ইসলামের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত করার লক্ষ্যে সব পর্যায়ের নির্বাচন দ্রুত করার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ তা করা হবে? জবাবে সংসদ কাজে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধাপে ধাপে সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় প্রয়োজন হয়।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা প্রস্তুত, ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া, কেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও সংস্কার, নির্বাচনী কর্মকর্তা নির্বাচন ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। তফসিল ঘোষণার প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে ন্যূনতম ৪৫ পঞ্জিকা দিবস প্রয়োজন হয়। খবর বিডিনিউজের।
‘ইভিএম নয়’
পাবনা–৫ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রশ্ন করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলগুলোর বিরোধিতা উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকা অপচয় করে ‘নষ্ট ইভিএম মেশিন’ কিনে জনগণের করের অর্থ অপচয় করেছে কিনা? বিষয়টি সত্য হলে সরকার তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে কিনা, সে প্রশ্নও করেন তিনি।
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতায় দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য তিন হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। ইভিএমগুলো অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হয় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়েছে। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন বা পিসিআর ২০২৫ সালের ১৩ মে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে পাঠানো হলেও এখনও মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ইভিএম প্রকল্পে অডিট অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে, সেগুলো এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রকল্পটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীনে তদন্ত চলমান আছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ০৮/২০২৫তম সভায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে ইভিএমগুলো বিভিন্ন গুদাম, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বা বিএমটিএফ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।











