টানা অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরতাপে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে। এতে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতি প্রতিদিন সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। হ্রদে প্রয়োজনীয় পানির অভাবে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে তিনটিই বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ফলে ২৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে এখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট, যা সক্ষমতার চার ভাগের এক ভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত পানির এই হ্রাস পাওয়া ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রুল কার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে কাপ্তাই লেকে প্রায় ৮৫ ফুট মিন সি লেভেল পানি থাকার কথা থাকলেও এখন রয়েছে ৭৮ ফুট। অর্থাৎ লেকে প্রায় ৮ ফুট পানি কম রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে গত কয়েক দিনের টানা খরা ও প্রচণ্ড খরতাপের কারণেও লেকের পানি হ্রাস পাচ্ছে। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান কাপ্তাই লেকে পানি হ্রাসের কথা স্বীকার করে বলেন, ভারী বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত লেকে পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ২টি ইউনিট সচল রয়েছে। এই দুইটি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও পানির অভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাপ্তাই লেকের বিশাল এলাকা শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। যেসব স্থান পানিতে টইটম্বুর থাকত, সেখানে এখন ধান চাষ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় লেক শুকিয়ে সরু খালের আকার ধারণ করেছে এবং শিশুরা সেখান থেকে মাছ ধরছে। বিলাইছড়ি উপজেলার ধুপ্যাছড়ি এলাকার এক বাসিন্দা জানান, পানি কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল করতে না পারায় যাতায়াতে চরম কষ্ট হচ্ছে।
কাপ্তাই লেকের পানি দ্রুত কমে যাওয়া প্রসঙ্গে কেন্দ্রের প্রাক্তন ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এটিএম আব্দুজ্জাহের বলেন, লেক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা মোটর বসিয়ে পানি টেনে নেওয়ায় সব পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অথচ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকালীন সিদ্ধান্ত ছিল এই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এখন সেই সিদ্ধান্ত না মানায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পুরোপুরি বৃষ্টির পানির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।














