চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সেবায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যাগেজ র্যাপিং সুবিধা যুক্ত হলো। এই দুইটি সুবিধাকে ‘মানবিক সুবিধা’ আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে বিদেশ থেকে আসা লাশ এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বহু মানুষকে ভুগতে হয়েছে। এখন থেকে এই বিমানবন্দর থেকে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। গতকাল (সোমবার) সকালে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আয়োজিত এক সভায় এই দুইটি সেবা যুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব এটিএম মাহাবুব উল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জানান, এখন থেকে বিদেশ ফেরত কোনো অসুস্থ প্রবাসী বা মৃত প্রবাসীর মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে বিমানবন্দর এলাকায় সার্বক্ষণিক ‘ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস’ প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রবাসী কার্ডধারী যাত্রীদের মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাত্র ১০০ টাকায় ‘ব্যাগেজ র্যাপিং’ সুবিধা চালু করা হয়েছে।
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর উল্লেখ করেন যে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াতকারী মোট যাত্রীর প্রায় ৭৩ শতাংশই প্রবাসী শ্রমিক। এই বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্ন আনলিমিটেড ফ্রি ওয়াই–ফাই (বিশেষ করে মোবাইল সিমলেজ ওয়াইফাই সেবা), মোবাইল রিচার্জিং স্টেশন সমপ্রসারণ এবং ফ্রি টেলিফোন বুথ, মনোরম নামাজ ঘর, বাচ্চাদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার প্রভৃতি সেবা চালু রেখেছে। বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে ৭৫০টি নতুন আধুনিক লাউঞ্জ–চেয়ার সহ নতুন যাত্রী লাউঞ্জ এবং যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্মোকিং জোন। বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য এপ্রোন এলাকায় র্যাম্প কার সেবা এবং সার্বক্ষণিক হেল্প ডেস্ক সার্ভিস। নতুন একটি বোর্ডিং ব্রিজও নির্মাণ করা হচ্ছে। শ্রীঘ্রই এই ব্রিজ চালু করা হবে বলেও বিমানবন্দরের পরিচালক জানান।
যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া ব্র্যাক, প্রত্যাশী ও শামসুল হক ফাউন্ডেশনের মতো এনজিওগুলোর মাধ্যমে দুস্থ প্রবাসীদের সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপার, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার, বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক (প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক) মোহাম্মদ আতিকুল আলম।












