মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে হরিণ জবাই

ভিডিও ভাইরাল

মীরসরাই প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মীরসরাইয়ের অথনৈতিক অঞ্চলে একটি চিত্রা হরিণ জবাইয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সংরক্ষিত এই বন্যপ্রাণী চিত্রা হরিণটি মীরসরাই উপজেলার উপকূলাঞ্চলেই কিছু দুষ্কৃতিকারী নির্মমভাবে জবাই করছিল। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে মীরসরাই উপজেলার ইছাখালি ইউনিয়নের অর্থনৈতিক জোন বা মুহুরী প্রকল্প এলাকায়। এই এলাকাতেই অবস্থিত মীরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে হরিণ জবাইয়ের ঘটনাটি গত ১১ এপ্রিল ঘটেছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছয় সেকেন্ডের। হরিণ জবাইয়ের সময় কাছাকাছি স্থান থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি এ সময় অনেকটা ক্ষোভের সুরে প্রশ্ন করেন, ‘ভিডিও কেন ধারণ করা হচ্ছে।’ পাল্টা জবাবে ভিডিও ধারণকারী এতে কী সমস্যা জানতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে এ ঘটনার সমালোচনায় মেতে ওঠেন অনেকেই। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান তারা।

বন বিভাগ জানায়, আগে মীরসরাই উপজেলার উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালির আশ্রয়স্থল। তবে এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড় হতে শুরু করে। এর ফলে বন্যপ্রাণী ও পাখপাখালি হারিয়ে যেতে থাকে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনো কিছু হরিণের অস্তিত্ব আছে। জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকে এসেছে বলে ধারণা বন কর্মকর্তাদের।

এই বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের মীরসরাই রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, ১১ এপ্রিল তিনজন দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। যতটুকু জানা গেছে, ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করে।

এদিকে বন বিভাগ উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এখানকার অবশিষ্ট কিছু বনে হরিণ শাবকদের যত্ন ও বিশেষ কেয়ার করছে বলে জানিয়েছেন এবং হরিণের কেয়ার নেয়ার ছবি তুলেও পাঠিয়েছেন। এই বিষয়ে মীরসরাইয়ের উপকূলীয় বন রেঞ্জ কর্মকর্তা নওশাদ আলম আরো বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পুরো এলাকাটিই জেলা প্রশাসক কর্তৃক অধিগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। একজন বন কর্মকর্তা হিসেবে অফিসিয়ালি কিন্তু এখনো আমাদের অধিনস্থ এলাকা বলা যায়। উন্নয়নের প্রয়োজনে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলেও এখনো বনায়নের দায়িত্ব আমাদেরকে দিলে আমরা সঠিকভাবেই বনায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারতাম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখালের কিনারায় পড়ে ছিল গৃহবধূর লাশ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন
পরবর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় বালুচাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু