বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে ৪০টি অবৈধ ইটভাটায় মানা হচ্ছেনা সরকারের কোনো বিধিনিষেধ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, আদালতের নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশ ও প্রশাসনের নির্দেশনা কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না এখানকার অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা। কৃষিজমি, পাহাড় কেটে ও স্থানীয় ছড়ার বালি উত্তোলন করেই চালাচ্ছেন ইটভাটা। এতে পরিবেশদূষণ যেমন বাড়ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনভূমির গাছপালা। জেলায় আলীকদম, থানচি, আজিজনগরে প্রায় অর্ধশত অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চললেও সেগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। অনেকস্থানে প্রশাসন দায়সারা অভিযান চালালেও ফের ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। আবার শ্রমিক–মালিকদের বাধার মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও ইটভাটায় ঢুকতে পারেননা এমন ঘটনাও ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলায় ৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে লামা উপজেলার ফাইতং, বনপুর, আজিজনগরে ৪০টি, আলীকদমে ৩টি, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪টি ও থানচিতে ১টি ইটভাটা চালু রয়েছে। রুমা, রোয়াংছড়ি ও বান্দরবান সদর উপজেলায় ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। জেলার সবচেয়ে বেশি ফাইতং ইউনিয়নেই রয়েছে ৩৬টি ইটভাটা। গতবছরের ১৫ ও ১৮ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে বিফল হন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লামার ৪৭টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৩টি জিগজ্যাগ চুল্লি রয়েছে। ঐসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করা হয়। অন্য ৩৪টি ইটভাটা গুলোতে বনাঞ্চল ধ্বংস করে জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়। মাটি সংগ্রহ করা হয় পাহাড় কেটে ও কৃষিজমি খনন করে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ফাইতংয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) অভিযোগ কর বলেন, ফাইতংয়ের শিবাতলীপাড়া, মে অংপাড়ার তিনটি পাহাড় কেটে ধ্বংস করা হয়েছে। ইটভাটার চুল্লির ধোঁয়া, তাপে ও যানবাহনের শব্দে পাড়াবাসী নাকাল হচ্ছেন। প্রতিবাদে কয়েকবার সড়কে বাঁশ টাঙিয়ে ইটপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছিল পরিবেশ দূষণের শিকার স্থানীয় বাসিন্দাররা। তবে ইটভাটা মালিকরা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ফের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। শিবাতলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে একটি ইটভাটা রয়েছে। এর কারণে শিক্ষার্থীরা দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেছেন, ইটভাটার মালিক–শ্রমিকদের এমন বেপরোয়া মনোভাব তিনি আগে কখনো দেখেননি। তারপরও কয়েক দফায় অভিযানে কিছু ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবার পরও ফের চালু করেছে ভাটা মালিকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপরে হামলাকারীরাও জামিন পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর দায়িত্ব দিয়ে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা কঠিন। বন বিভাগ যদি কঠোরভাবে জ্বালানি কাঠ বন্ধ করতে পারে, ইটভাটা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবেশ অধিদপ্তরে এখন জনবলসংকট ও অর্থসংকট রয়েছে। তবে অভিযান চলবে। একাধিক দল অভিযান চালালেও ৭০টি ইটভাটা ধ্বংস করতে ১৫ থেকে ২০ দিন লাগতে পারে। এতে ব্যয় হতে পারে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা। লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অভিযান চালিয়ে বহু ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। কিছু ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে ভেঙে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আবার সেসব ইটভাটা চালু করেন মালিকেরা।














