বাংলাদেশ দল নিয়ে আশাবাদী হামজা

সমর্থকদের বললেন বিশ্বসেরা

| শনিবার , ৪ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে লড়াই করে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের নিয়ে আশাবাদী হামজা চৌধুরী। সিঙ্গাপুর ম্যাচ শেষে ইএসপিএন এশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খেলা শেষে ইংল্যান্ডে ফিরে গেছেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

প্রশ্ন: সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ফলাফল নিয়ে যদি কিছু বলতেন। এটি আপনাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নয়, তবে ব্যবধানটা ছিল খুবই কম। আপনার কী মনে হয় না ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ এই গ্রুপের অন্য দলগুলোর কতটা কাছাকাছি পৌঁছে গেছে?

হামজা চৌধুরী: হ্যাঁ, একদম তাই। আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। আমি এখানে আসার এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক উন্নতি করেছি। সিঙ্গাপুরের মতো দল, যারা ইতোমধ্যে কোয়ালিফাই করে ফেলেছে, তাদের মাটিতে এসে আমরা যেভাবে ফুটবল খেলেছি তা নিয়ে আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। এটি আমাদের পরবর্তী ক্যাম্পেইনের জন্য ভালো একটা ভিত্তি তৈরি করবে। সিঙ্গাপুর বেশ শক্তিশালী দল, তাই তাদের বিপক্ষে এমন খেলা অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক।

প্রশ্ন: আপনি ঠিক এক বছরের কথা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের জার্সিতে আপনারও অভিষেকের ঠিক এক বছর পার হয়েছে, সেটা কেমন ছিল?

হামজা চৌধুরী: অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলোর একটি। আমি চাইনি এটি অন্য কোনোভাবে কাটুক। অবশ্যই কোয়ালিফিকেশনের ব্যাপারটি মাথায় আছে, তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে। হারলে সবাই হতাশ হয়, কোচও হতাশ। তবে আমি নিশ্চিত যে আমরা যখন ম্যাচের ভিডিওগুলো আবার দেখবো, তখন বুঝতে পারবো দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।

প্রশ্ন: দর্শকদের উপস্থিতি আর চিৎকার দেখে এটা বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল যে এটি বাংলাদেশের অ্যাওয়ে ম্যাচ (বিদেশের মাটিতে খেলা)। বিদেশের মাটিতেও এমন সমর্থন পেয়ে কেমন লাগছে?

হামজা চৌধুরী: এটি অবিশ্বাস্য! আমি এইমাত্র ওখানে বলছিলাম যে আমার মনে হয় ওরাই বিশ্বের সেরা সমর্থক। তারা কষ্ট করে অনেক দূর ভ্রমণ করেছেন। আমাদের খেলা দেখতে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে এখানে এসেছেন। যদিও আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি এবং দিনটি ছিল প্রায় সিঙ্গাপুরের জন্য একটি উৎসবের মতো। তা সত্ত্বেও তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন, যা অতুলনীয়। আমরা তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এবং আশা করি তারা এভাবেই আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবেন।

প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন। আপনার এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কোনদিকে যাচ্ছে?

হামজা চৌধুরী: আশা করি সামনে ভালো কিছু হবে। সম্ভবত এই গ্রীষ্মে আমাদের কিছু প্রীতি ম্যাচ থাকবে। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে আমরা জয়ের প্রত্যাশা করি। দেশের মানুষের এবং আমাদের নিজেদের মধ্যেও সেই প্রত্যাশা এখন তৈরি হয়েছে। কারণ আমরা ইদানীং বেশ ভালো খেলছি। এরপর ২০২৭ ক্যাম্পেইনের দিকে তাকিয়ে আছি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা লক্ষ্য অর্জনে সফল হবো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল
পরবর্তী নিবন্ধডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে কাপ্তাই উপজেলা