ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় বাড়ল প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গতকাল বৃহস্পতিবার এক আদেশে বলেছে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে এপ্রিল মাসের জন্য এ দর ঠিক করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। খবর বিডিনিউজের।
খুচরা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ প্রতি কেজির দাম মার্চের ১১১ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এপ্রিলের জন্য ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসাবে এক মাসে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। মার্চে ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৩৯৭ টাকা। এপ্রিলে তা বেড়ে ১,৮০১ টাকা হয়েছে। আর ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৯২ টাকা।
বড় সিলিন্ডারগুলোর দামও একই হারে বেড়েছে। ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৭৬ টাকা থেকে ২ হাজার ১৬১ টাকা; ১৬ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৮৮ টাকা থেকে ২ হাজার ৩০৫ টাকা; ১৮ কেজিরটি ২ হাজার ১১ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৯৩ টাকা; ২০ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮৮১ টাকা এবং ২২ কেজিরটি ২ হাজার ৪৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১৬৯ টাকা হয়েছে। আর ২৫ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৭৯৪ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৬০১ টাকা; ৩০ কেজিরটি ৩ হাজার ৩৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৩২১ টাকা; ৩৩ কেজিরটি ৩ হাজার ৬৮৭ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা; ৩৫ কেজিরটি ৩ হাজার ৯১১ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ০৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৫ হাজার ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৪৮২ টাকা হয়েছে।
রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দামও বেড়েছে। তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম মার্চের ১০৭ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটারের দাম ২৩৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩১১ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। আর প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম মার্চের ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এপ্রিলের জন্য ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা করা হয়েছে।
বিইআরসি বলছে, সৌদি আরামকোর ঘোষিত কন্ট্রাক্ট প্রাইস অনুযায়ী এপ্রিলের জন্য বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের নতুন এই দর ঠিক করা হয়েছে। এপ্রিলের জন্য প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৭৫০ ডলার এবং বিউটেনের ৮০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দুই গ্যাস ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপিজি হয়। তাতে গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৮২ দশমিক ৫০ ডলার, যা মার্চে ছিল ৫৪১ দশমিক ৭৫ ডলার। প্রতি মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় মূল্য মার্চের ১২২ দশমিক ৪৭ টাকা থেকে বেড়ে এপ্রিলের জন্য ১২২ দশমিক ৯৪ টাকা ধরা হয়েছে।










